দৈনন্দিন জীবনে ফিটকিরির ব্যবহার

আপনি কি দৈনন্দিন জীবনে ফিটকিরির ব্যবহার জানতে চান তাহলে আজকের পোস্টটি আপনার জন্য। ফিটকিরি অনেক গুণ সম্পন্ন যা ক্ষতস্থান পরিষ্কারে, পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহার হয়। এরকম আরো ব্যবহার জানতে আজকের পোস্ট পড়ুন।
দৈনন্দিন-জীবনে-ফিটকিরির-ব্যবহার
ফিটকিরি একটি বর্ণহীন কঠিন পদার্থ যার দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি গন্ধহীন ও বর্ণহীন হলেও এর অনেক উপকারিতা আছে। তো চলুন আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ফিটকিরির নানান ব্যবহার এবং এর গুনাগুন সম্পর্কে জেনে নেই।

পোস্ট সূচিপসঃ দৈনন্দিন জীবনে ফিটকিরির ব্যবহার জানুন

দৈনন্দিন জীবনে ফিটকিরির ব্যবহার

আপনি দৈনন্দিন জীবনে ফিটকিরির ব্যবহার জানলে অবাক হয়ে যাবেন। আমরা সাধারন ভাবে ভাবি কোন জিনিস দামি হলে সেটা অনেক ভালো কিন্তু সব সময় এমনটা হয় না এমনই একটা জিনিস হচ্ছে ফিটকিরি, এটি বর্ণহীন, স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ। ফিটকিরি খুব সহজে এবং কম মূল্যে বাজার থেকে পাই এবং দৈনন্দিন অনেক কাজে এই ফিটকিরি ব্যবহার করতে পারি এবং আজকে আমরা এর গুনাগুন সম্পর্কে জানব।
দাঁড়ি সেভের পর যদি কেটে যায় বা অন্য কোথাও কেটে গেলে রক্তপাত হয় তবে কাঁটা স্থানে ফিটকিরি ঘষে নিলে তৎক্ষণাৎ অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। একটা সময় ছিল যখন ফিল্টার ব্যবহার হতো না কিন্তু পানি বিশুদ্ধকরণের দরকার ছিল তখন এই ফিটকিরি পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহার হতো এতে সব ময়লা তলানিতে জমে থাকে, এখন তো আবার অনেকেই বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে তাতে ফিটকিরি দিয়ে থাকে পানি বিশুদ্ধ করতে এবং সারা বছর ব্যবহার করতে। রূপচর্চায় এর ব্যবহার অনেক আগে থেকেই হত এটি ত্বকের ব্রণ কমাতে, বলিলেখা বা রিংকেল কমাতে ব্যবহার হয়। এই সামান্য ফিটকিরি ম্যাজিক এর মত ব্যবহার হয়।

ঘর পরিষ্কার করতেও ফিকিরের ব্যবহার অনেক। ঘরে যদি দুর্গন্ধ হয়, ফ্রিজে দুর্গন্ধ হলে, রান্না ঘরে ময়লা অথবা দুর্গন্ধ হলে এই ফিটকিরি দিয়ে ঘর মুছলে বা পরিষ্কার করলে খুব ভালো পরিষ্কার ও দুর্গন্ধ দূর হয়। শরীরের চুলকানি হলে, র‍্যাশ হলে এটি ঘোষলে বা গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে গোসল করলেও খুব ভালো কাজ করে।

অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার

ফিটকিরির নাম শুনলেই আমরা যারা ৯০ দশকের ছেলেমেয়েরা আছে তাদের কল্পনায় হয়তো আসবে আমাদের বাবা, চাচারা, মামারা দাঁড়ি ক্লিন করার পর এটা ব্যবহার করতেন কারণ এটি খুব ভালো অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে ক্ষত ঠিক করতে। তাই অ্যান্টাসেটিক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার অনেক পুরনো এবং এটি একটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে পরিচিত। এটি ছোটখাটো কাটা, ক্ষত এবং ত্বকের সংক্রমণ নিরাময়ে সাহায্য করে।

ফিটকিরি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে অর্থাৎ ফিটকিরি মেশানো জল দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করলে তা সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় এবং দাঁড়ি কাটার পর এই ফিটকিরি ত্বকে লাগালে তাতেও সংক্রমণ হয় না। শরীরে যদি কোন স্থানে কেটে যায় বা ঘা হয়ে যায় তাহলে ফিটকিরি ঘষলে বা এর পানি ব্যবহার করলেও তার দ্রুত ঠিক হয়ে যায়। কোন স্থানে যদি চুলকানি হয় অথবা চুলকানোর জন্য র‍্যাশ হয়ে যায় তাহলে সেই স্থানে ফিটকিরি ব্যবহার করলে অথবা ফিটকিরি মেশানো পানি দিয়ে গোসল করলে তা ঠিক হয়ে যাবে।

ত্বকের যত্নে ফিটকিরির ব্যবহার

দৈনন্দিন জীবনে ফিটকিরির ব্যবহার আসলে বলে শেষ করা যাবে না ত্বকের যত্নে ফিটকিরির ব্যবহার উন্নতম। ফিটকিরি শুধু অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহার হয় না এটি ত্বকের যত্নে এবং ত্বকের বিভিন্ন প্রদাহ দূর করতে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও ফিটকিরির ভূমিকা অনেক। অনেকেই ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন তারা হয়তো বাইরে থেকে বিভিন্ন প্রোডাক্ট ব্যবহার করেছেন কিন্তু কোন উপকার পাননি তাদের জন্য একটি সহজ ঘরোয়া প্রক্রিয়া হতে পারে এই ফিটকিরি। পাশাপাশি এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই দামি দামি ক্রিমে। তাই সঠিক নিয়মে ফিটকির ব্যবহার করতে হবে যদি আপনি উপকার পেতে চান।
ফিটকিরি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হওয়ায় ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দেয় এবং ব্রনের দাগ কমাতে সাহায্য করে এবং যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত প্রকৃতির তারা ফিটকিরি ব্যবহার করতে পারে কারণ এটি অতিরিক্ত তেল শোষণ করে তেল নিঃসরণে সাহায্য করে। যাদের তকে ব্রণের কারণে ছিদ্র হয়ে গেছে ফিটকিরি সেই ছিদ্র দূর করে তাই ব্যবহার করতে পারেন এবং এটি ত্বকের ভালো কোষগুলো সতেজ করে দিয়ে ত্বক উজ্জ্বল করে এবং খারাপ কোষ ধ্বংস করে মেস্তা দূর করে দেয়। এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করাই ত্বকের প্রদাহ বা সংক্রমণ দূর করে।

পানি বিশুদ্ধকরণে ফিটকিরির ব্যবহার

প্রাচীনকালে যখন ফিল্টার ব্যবহার হতো না তখন এটাই ছিল প্রথম ফিল্টার অর্থাৎ পানি বিশুদ্ধকরণে প্রথম ফিল্টারই ছিল এই ফিটকিরি। এটি পানির ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এর ময়লা পরিষ্কার করে ময়লাগুলো তলানিতে জমতে সাহায্য করে তাই তো আগের মানুষজন একটি মাটির পাত্রে বা কলসিতে কয়েক টুকরো ফিটকিরি দিয়ে রাখত এতে পানি খাওয়ার উপযোগী হত। এটি একটি প্রাকৃতিক বিশুদ্ধকরণ যাতে কোন রাসায়নিক ব্যাঘাত ঘটে না বরং নিজেই অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসেবে বিক্রিয়া করে পানি বিশুদ্ধ করে।
দৈনন্দিন-জীবনে-ফিটকিরির-ব্যবহার-জানুন-বিস্তারিত-সকল-বিষয়
বর্তমানে অনেকেই এটি ব্যবহার করে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে তাতে ফিটকিরি দিয়ে থাকে এবং এতে সারা বছর পানি ভালো থাকে। গ্রামাঞ্চলে এখনো এটি সবাই ব্যবহার করে থাকে আপনিও চাইলে ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে একটি পাত্র নিয়ে তাতে কয়েক টুকরো ফিটকিরি যোগ করুন এবং কিছুক্ষণ রেখে দিন। ময়লা নিচে জমা হলে অন্য পাত্রে পানি ঢেলে নিন।

ঘর পরিষ্কার রাখতে ফিটকিরির ব্যবহার

এর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ঘরের ব্যাকটেরিয়া দূর করে ঘর পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এটি ফ্রিজ পরিষ্কার করতে, ঘর মুছতে, ঘরের দুর্গন্ধ দূর করতে, রান্নাঘর পরিষ্কার করতে এবং মুছতে ফিটকিরি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এতে আপনার তেমন টাকা খরচও করতে হবে না এবং খুব সহজে এবং দ্রুত পরিষ্কার করে ঘরকে দুর্গন্ধ মুক্ত করতে পারবেন।

ফ্রিজ পরিষ্কার করতে এটি ব্যবহার করতে পারেন, অনেক সময় ফ্রিজের দুর্গন্ধ হয় তাই একটি বাটিতে কয়েক টুকরো ফিটকিরি নিয়ে তা ফ্রিজে রেখে দিন এতে ফ্রিজের গন্ধ দূর হবে এবং ফ্রিজে রাখা সবজিতেও বন্ধ হবে না। রান্নাঘর পরিষ্কার করতে এটি ব্যবহার করতে পারেন, তাই এক বালতি পানিতে ফিটকিরি গুঁড়ো দিয়ে ভালোমতো মিশিয়ে নিয়ে তারপর সেই পানি দিয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করুন। এতে রান্নাঘর পরিষ্কার হবে এবং রান্নাঘরের দুর্গন্ধ দূর হবে।

নারীদের সাদা স্রাব দূর করতে ফিটকিরির ব্যবহার

বর্তমানে মেয়েরা অনেক চিন্তায় থাকে তাদের সাদাস্রাব নিয়ে কারণ সাদাস্রাব হলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা হয়, ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে যায়। তাই মেয়েদের জন্য ভাল একটি ঘরোয়া পদ্ধতি হচ্ছে এই ফিটকির। ফিটকিরি ব্যবহার করলে সাদা স্রাব কমে যায় এবং চুলকানি কমে যায়।
ফিটকিরি গুঁড়ো করে নিয়ে তা একটি লোহার কড়াইে আধা ঘন্টা ভেজে নিতে হবে তারপর একটি পাত্রে ঢেলে নিতে হবে। রাতে আধা চামচ ফিটকিরি পাউডার পানিতে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিয়ে তা জরায়ুতে ভালোমতো লাগিয়ে শুয়ে পড়ুন তারপর সকালে উঠে সেই ফিটকিরি পাউডার এক মগ পানিতে মিশিয়ে সেই ফিটকিরি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি নিয়মিত করতে থাকুন এবং টানা ৩০ দিন ব্যবহার করলে সাদাস্রাব বন্ধ হয়ে যাবে।

জরায়ুর বিভিন্ন সমস্যায় ফিটকিরির ব্যবহার

চিকন আলীদের বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবহার করা হয় এবং এটি যে এতটা উপকারিতা হয়তো আমরা জানিনা। সাদা স্রাব কমাতে কিভাবে ব্যবহার করবেন তা তো আমরা জেনে নিলাম। এখন জানুন যেমন জরায়ুর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কিভাবে ফিটকিরি ব্যবহার করবেন।
দৈনন্দিন-জীবনে-ফিটকিরির-ব্যবহার-জানুন-বিস্তারিত
নরমাল ডেলিভারির পরে জরায়ু ঝুলে পড়ে এতে পরবর্তীতে যৌন জীবনে অনেক সমস্যা হয় আবার অনেক সময় যৌনি পথে অনেক চুলকানি হয়, চুলকানোর জন্য চামড়া ছিলে যায় এতে অনেক সমস্যা হয়। এই ফিটকিরি ব্যবহার করলে যেমন চুলকানি কমে যায় কেমন জরায়ুর টাইট হয়ে যায়। একই নিয়মে ফিটকিরি গুঁড়ো করে তা ভেজে নিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে পেস্ট বানিয়ে লাগিয়ে নিবেন এবং ঘুম থেকে উঠে ফিটকিরি মেশানো পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন এতে খুব দ্রুত উপকার পাবেন।

ফিটকিরি ব্যবহারের বেশকিছু উপকারিতা

দৈনন্দিন জীবনে ফিটকিরির ব্যবহার অনেক। এই ফিটকিরি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয় এবং এর উপকারিতা অনেক। চলুন জেনে আসি ফিটকিরির উপকারিতাঃ

  • রূপচর্চায়ঃ রূপচর্চার কাজের ব্যবহার অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। চেহারার বলি রেখা বা রিংকেল কমাতে এবং ব্রণ কমাতে, মেস্তার দাগ কমাতে ফিটকিরি ব্যবহার করা হয়। ব্রণ ও ফুসকুড়ি হলে নির্দ্বিধায় ফিটকিরি ব্যবহার করতে পারেন এটি ম্যাজিকের মতন কাজে দিবে। সে ক্ষেত্রে এক চামচ মুলতানি মাটির দু চামচ ডিমের সাদা অংশ ও এক চামচ পিটকির গুঁড়ো দিয়ে প্যাক বানান। একটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন তারপর ধুয়ে ফেলুন।
  • টনসিলের ব্যথায়ঃ গলার টনসসিলে ব্যথা বা অনেক সময় ঢোক গিলার সময় ব্যথা অনুভব হয়। তখন গরম জল করে সামান্য লবণ ও সামান্য ফিটকিরি দিয়ে গড়গড়া করে নিলে সমস্যা অনেক দূরীভূত হয়।
  • দাঁত ব্যথায়ঃ দাঁতের যন্ত্রণায় বা ব্যথায় এই ফিটকিরি অনেক কাজ দেয়। সেক্ষেত্রে গরম পানিতে সামান্য ফিটকিরি দিয়ে গড়গড়া করলে দাঁতের সমস্যা দূর হয়। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন কোনোভাবে পেটে না যায়।
  • মুখে দুর্গন্ধ হলেঃ দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়ার কারণে অনেক সময় মুখে দুর্গন্ধ হয় তখন ফিটকিরি এই ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সক্ষম হয়। এক গ্লাস পানি ফুটিয়ে তার মধ্যে এক চিমটি লবণ আর ফিটকিরি গুঁড়ো মিশাতে হবে। তারপর মিশ্রণটি ঠান্ডা হলে তা দিয়ে কুলকুচি করতে হবে।
  •  খুশকি দূর করতেঃ মাথায় খুশকি নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন তখন অনেক নামিদামি প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও কোনভাবে সারাতে পারছেন না তখন তাদের জন্য কাজে দিবে সামান্য ফিটকিরি। খুশকি সারাতে রেগুলার ব্যবহৃত শ্যাম্পুর সাথে একটু ফিটকিরি পাউডার মিশিয়ে আধা ঘন্টার মতো রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে কয়েক দিন করলে খুশি দূর হয়ে যাবে।
  • মূত্রনালীর ইনফেকশন কমাতেঃ যাদের মূত্রনালীতে ইনফেকশন হয়ে থাকে বিশেষ করে মহিলাদের। সে ক্ষেত্রে তারা যদি নিয়মিত অথবা যখন হবে তখন ফিটকিরি খানিকটা পানির মধ্যে গুলে দিনে তিনবার খেতে হবে। তাহলে মূত্রনালীর ইনফেকশন খুব সহজে সেরে যাবে, কোন সমস্যা হবে না।
  • মুখে ঘা হলেঃ মাঝেমধ্যে আমাদের মুখে ঘা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে সেখানে ফিটকিরি লাগালে সামান্য জ্বলতে পারে কিন্তু এক্ষেত্রে মুখের ঘা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে। তবে এই সময় খেয়াল রাখতে হবে কোনভাবে মুখের লালা গিলে ফেলা যাবে না।
  • চুল পড়া রোধ করতেঃ বর্তমানে চুল পড়ার সমস্যায় ভুগে থাকেন এমন অনেক মানুষ পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে সামান্য ফিটকিরির ব্যবহার আশীর্বাদ স্বরূপ হবে। তুই পড়ার রোদে আপনাকে ফিটকিরি মিশ্রিত পানি চুলের গোড়ায় ব্যবহার করতে হবে এতে করে মাথার ত্বক পরিষ্কার হবে এবং চুল পড়ার রোধ হয়ে যাবে।
  • কাপড়ের রং স্থায়ীকরণঃ ফিটকিরি কাপড়ের রং স্থায়ী করতে সাহায্য করে থাকে। এর জন্য আপনার ডিটারজেন্টের সাথে সামান্য পরিমাণ ফিটকিরি ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে কাপড়ের রং স্থায়ী হবে।
  • বগলের কালো দাগ ও দুর্গন্ধ দূর করতেঃ অনেক সময় শরীরে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হয় আর এর জন্য দায়ী বগল ঘামানো। অনেককে তো বেশ বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়। এজন্য গোসলের পর ফিটকিরি পানিতে ভিজিয়ে বগলে ঘষে নিতে হবে। এতে করে বগলের দুর্গন্ধ তো যাবে সাথে কালচে ভাব দূর হবে ফলে আপনার ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না।

ফিটকিরির বেশকিছু ক্ষতিকর দিক বা অপকারিতা

ফিটকিরির অনেক ব্যবহার থাকলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহারে অথবা সঠিক নিয়ম না মেনে ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে। তাহলে চলুন যদি আসি এর কিছু অপকারিতাঃ

  • অতিরিক্ত ফিটকিরি ব্যবহার করলে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।
  • ফিটকিরি কোন ভাবে পেটে গেলে পেট ব্যথা, বমি বা ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।
  • ফিটকিরি চোখে গেলে জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।
  • ফিটকিরির অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
  • ফিটকিরি গুড়া শ্বাসনালীতে প্রবেশ করলে ফুসফুসের সমস্যা এলার্জি সমস্যা হতে পারে।

শেষ কথাঃ দৈনন্দিন জীবনে ফিটকিরির ব্যবহার

আজকে আমরা আলোচনা করেছি দৈনন্দিন জীবনে ফিটকিরির ব্যবহার সম্পর্কে। ফিটকিরি এমন একটি ঘরোয়া উপাদান যার অনেক উপকারিতা আছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এটি যদি আমরা নিয়ম মত ব্যবহার না করি তাহলে অনেক সমস্যা হতে পারে তাই ঠিকমত নিয়ম এবং মেনে ব্যবহার করতে হবে।

আমার মতে দৈনন্দিন জীবনে ফিটকিরির ব্যবহার খুবই উপকারী ও সহজ। পানি পরিষ্কার করা, ছোট কাটা বা ক্ষত হলে রক্ত বন্ধ করা, এমনকি শেভ করার পর জীবাণু কমাতেও এটি ভালো কাজ করে। এছাড়া অনেকে ঘামের দুর্গন্ধ কমাতে প্রাকৃতিকভাবে ফিটকিরি ব্যবহার করে। তাই কম খরচে ফিটকিরি আমাদের অনেক ছোট সমস্যার সহজ সমাধান দিতে পারে। আশা করি আজকের পোস্ট থেকে আপনি উপকৃত হয়েছেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ক্রিয়েটিভ ইনফো ৩৬০ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url