শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এই চিন্তাটা যেকোনো মা-বাবার বুক কাঁপিয়ে তোলে। ছোট্ট
মুখে জ্বর, র্যাশ আর নিস্তেজ চোখ দেখে কেমন অসহায় লাগে, তাই না? আমি নিজেও এই
পরিস্থিতিতে খুব খারাপ ভাবে সম্মুখীন হয়েছি।
শিশুদের হাম হলে শুধু ওষুধ দিয়ে না সাথে ভালোবাসার ছায়াও শিশু সুস্থ হওয়া সবচেয়ে
বড় ওষুধ হতে পারে। আমার এই লেখায় খুব সহজভাবে বলব, হাম এর লক্ষণ, কিভাবে হাম
প্রতিরোধ করবেন আর ঘরে বসেই কিভাবে শিশুর যত্ন নিবেন। চলুন শুরু করি।
পোস্ট সূচিপত্রঃ শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
- শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
- হাম এর সাধারণ লক্ষণ ও সংকেত
- হাম প্রতিরোধের সহজ উপায়
- ডাক্তারের পরামর্শ এবং ওষুধের সঠিক ব্যবহার
- ঘরোয়া যত্ন ও খাবারের নিয়মাবলি
- শিশুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি
- পর্যাপ্ত পানি খাওয়ানো এবং পুষ্টির গুরুত্ব
- টিকা এবং পরবর্তী সতর্কতা
- জরুরি চিকিৎসার দরকার যখন পড়ে
- শেষ কথাঃ শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
আপনি যখান জানতে চান, শিশুদের হাম হলে কি করনীয়? তখন আমি প্রথমেই বলব, ভয় পাবেন
না। আমি বুঝি নিজের সন্তানের গায়ে হঠাৎ করে জ্বর, র্যাশ আর নিস্তেজ চোখ দেখে যে
বুক মোচড়ানো অনুভূতি হয় সেটা কোনো লেখায় পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না। আমি নিজেও
বহুবার এমন অবস্থায় পড়েছি। তাই আপনাকে পুরোটা বোঝাতে পারব, ইনশাআল্লাহ। হাম মূলত
একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। তাই একে অবহেলা করার সুযোগ নেই। তবে সঠিক যত্ন নিলে
শিশুটি সহজেই সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। এই অবস্থায় আপনার প্রথম করণীয় হলোঃ
- শিশুকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। জ্বরের মাত্রা কত, খাচ্ছে কিনা, ঘুম কেমন হচ্ছে তা খেয়াল করুন।
- শিশুকে আরামদায়ক, হালকা জামাকাপড় পরান এবং পরিষ্কার বিছানায় রাখুন।
আরও পড়ুনঃ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসলে করণীয় কি
- প্রচুর পানি বা তরল খাবার দিন। এটি হাম হওয়ার পর শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে করণীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- ডাক্তারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন। নিজেদের সিদ্ধান্তে ওষুধ না দিয়ে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এগুলো হলো একেবারে প্রাথমিক ও জরুরি করণীয়। অনেক মা-বাবা আছেন যারা প্রথমবারের
মতো এ রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তাদের বলবো শিশুদের হামের সময় কি করতে হবে
সেটা আগে বুঝুন, জানুন তারপর ধাপে ধাপে কাজ করুন। ভয়ের কোন কারণ নেই, কিন্তু
অবহেলার সুযোগও নেই। এই পর্যায়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে বলব, শিশুকে আগলে রাখার এই
সময়টাতে আপনি যতটা ধৈর্য ধরে ওকে ভালোবাসা দিবেন ওর সুস্থতা তত তাড়াতাড়ি ফিরে
আসবে।
হাম এর সাধারণ লক্ষণ ও সংকেত
শিশুদের হাম হলে কি করনীয় সেটি বোঝার আগে আমাদের জানা দরকার শিশুটি কি আসলে হাম
এ আক্রান্ত হয়েছে কিনা। কারণ অনেক সময় অন্য সাধারণ জ্বরের সাথে হামকে গুলিয়ে
ফেলেন অনেক অভিভাবক। আমার কাছে প্রথম ধাপে লক্ষণ চেনাই হলো সবচেয়ে বড় করণীয়।
শিশুদের হামের সময় কি করতে হবে তা নির্ভর করে আপনি কত দ্রুত সেটি চিনে পদক্ষেপ
নিচ্ছেন। হামের লক্ষণগুলো সাধারণত ৭-১৪ দিন পর স্পষ্ট হতে শুরু করে। লক্ষণগুলো
হলোঃ
- উচ্চমাত্রার জ্বর (১০১ ডিগ্রি বা তার বেশি)
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা পানি পড়া
- নাক দিয়ে পানি পড়া, শুকনো কাশি
- মুখের ভিতর সাদা দাগ
- পরে মুখ থেকে শুরু করে শরীরজুড়ে লালচে র্যাশ ছড়িয়ে পড়া
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই শিশুকে আলাদা রাখুন, যাতে ভাইরাস অন্যদের মাঝে ছড়াতে
না পারে। কারণ হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আপনার শিশুর যদি এই লক্ষণগুলো
থাকে, তাহলে হাম হওয়ার পর শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে করণীয় প্রথম ধাপ হবে তাকে
বিশ্রাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তরল খাবার এবং মেডিকেল পর্যবেক্ষণ রাখা।
হাম প্রতিরোধের সহজ উপায়
শিশুদের হাম হলে কি করবেন সেটা জানার আগেই যদি রোগটির প্রতিরোধ সম্পর্কে জানেন
তাহলে হাম রোগের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমখি হতেই হবে না। আমার নিজের পরিবারে হাম
প্রতিরোধ করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি ছিল সময়মতো টিকা। হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে
সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হলো MMR (Measles, Mumps, Rubella) টিকা। এছাড়াও
কিছু কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আপনি নিতে পারেন। যেমনঃ
- শিশুর জন্মের ৯ মাস পূর্ণ হলে MMR টিকা দিন এবং পরে বুস্টার ডোজও সম্পন্ন করুন।
- হাম আক্রান্ত কেউ যদি কাছাকাছি থাকে তাকে শিশুর আশে পাশে আসতে দিবেন না।
আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় কলার মোচা খাওয়ার উপকারিতা
- শিশুকে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন, কারণ দূর্বল ইমিউনিটি থাকলে হাম সহজেই সংক্রমণ ঘটায়।
- সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত পানি খাওয়ানোও হাম প্রতিরোধে সহায়ক।
অনেকেই ভাবেন শুধু টিকা দিলেই হলো। কিন্তু আমি বলি হাম হওয়ার পর শিশুর সুস্থতা
নিশ্চিত করতে করণীয় ঠিক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিরোধের দিকেও খেয়াল রাখা
সমান জরুরি।
ডাক্তারের পরামর্শ এবং ওষুধের সঠিক ব্যবহার
শিশুদের হাম হলে আমাদের করণীয় কী এই প্রশ্নের জবাবে আমার একটাই কথা কখনোই
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের সিদ্ধান্তে কিছু করবেন না। অনেক সময় আমরা
অভিজ্ঞতা বা ইন্টারনেট দেখে সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু হাম এক ধরনের ভাইরাসজনিত
জটিল রোগ, এখানে ভুল করা মানে ঝুঁকি নেওয়া। আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় বলি,
শিশুদের হামের সময় কি করতে হবে তা একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞই সবচেয়ে ভালো বুঝবেন।
তাই উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান। চিকিৎসকের কাছ থেকে আপনি যেসব
বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনঃ
- এটি আসলেই হাম কিনা নাকি অন্য কোনো ভাইরাসজনিত জ্বর
- শিমুর শরীরে জ্বরের মাত্রা কতটুকু এবং সেটি কতদিন থাকবে
- কোন ওষুধ কখন, কিভাবে দিতে হবে
- প্রয়োজনে ভিটামিন এ কিংবা অন্যান্য সাপোর্টিভ মেডিসিনের পরামর্শ
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় জ্বরের ওষুধ, হালকা
এন্টিহিস্টামিন বা স্যালাইন দেওয়া হতে পারে। কিন্তু কখনোই এন্টিবায়োটিক নিজে
থেকে দিবেন না। কারণ হাম ভাইরাস দ্বারা হয় এবং এতে এন্টিবায়োটিক কাজ করে না।
শিশুকে যত বেশি ওষুধ না দিয়ে আরাম, বিশ্রাম ও তরল খাবার দেবেন তত তাড়াতাড়ি সে
সেরে উঠবে। অপ্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার ফলে শিশুর হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই হাম
হওয়ার পর শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে করণীয় মানেই সবসময় বেশি ওষুধ না বরং সঠিক
পরামর্শ ও মেপে চলা। আমার একটাই পরামর্শ থাকবে সন্দেহ হলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন
হোন। কারণ আপনার শিশুর সুস্থতাই তো সবকিছুর চেয়ে বড়।
ঘরোয়া যত্ন ও খাবারের নিয়মাবলি
ঘরের ছোট্ট শিশুটি হাম এ আক্রান্ত হলে নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তায় ভুগেন। একজন বাবা-মা
হয়ে সন্তানকে অসুস্থ অবস্থায় দেখা অনেক কষ্টের। তখন প্রথম প্রশ্নটাই হতে পারে
শিশুদের হাম হলে করনীয় আসলে কী। ডাক্তার দেখানো ও ওষুধের পাশাপাশি বাড়ির যত্নই
শিশুর সুস্থতায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। হাম ভাইরাসজনিত হওয়ায় এর কোনো নির্দিষ্ট
ওষুধ নাই। তাই ঘরোয়া পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবারই হলো শিশুর শরীরের ভাইরাসের
বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান অস্ত্র। জেনে নিন হামের সময় ঘরোয়া যত্নগুলো সম্পর্কেঃ
- শিশু যেন পর্যাপ্ত ঘুম পায় ও বিশ্রামে থাকে তা নিশ্চিত করুন। ক্লান্ত শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
- শিশুর ঘর নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। ঘাম ও ধুলোবালিতে চুলকানি বেড়ে যেতে পারে।
- ডাল, ভাত, সবজি, স্যুপ, সেমাই ইত্যাদি শিশুর জন্য সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর। হাম হওয়ার পর শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে করণীয় এই খাবারগুলো তার শরীরকে পুনরায় শক্তি যোগাবে।
- জ্বরের সময় শরীর দ্রুত পানি হারায়। তাই নারকেল পানি, ফলের রস, ইত্যাদি শিশুকে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন, এগুলো শরীরকে হাইড্রেট রাখবে।
- চোখে পানি পড়া বা লাল হলে কটন দিয়ে আলতো করে মুছে দিন। চোখের পরিচর্যা খুব জরুরি। তবে কখনোই চোখে হাত দিবেন না বা শিশুকে দিতে দিবেন না।
শিশুদের হামের সময় কি করতে হবে সেটি অনেকটাই নির্ভর করে আপনি তাকে কিভাবে
সাপোর্ট দিচ্ছেন, মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে নাকি ভালোবাসা দিয়ে।
শিশুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি
শিশুদের হাম হলে কি করনীয় নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিশুর শরীরের
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং তাকে আরামদায়ক ও নিরিবিলি পরিবেশে রাখা। কারণ হাম
হলে সাধারণত শরীরের জ্বর অনেক বেড়ে যায় আর এই জ্বরই শিশুকে সবচেয়ে বেশি দুর্বল
করে তোলে। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি বুঝি শিমুর কপালে হাত দিলেই যখন গরম লাগে,
বুকের ভেতর চিনচিন করে ওঠে। তখন শিশুর জ্বর কমানোই হয়ে ওঠে প্রধান কাজ।
আরও পড়ুনঃ লিচু ফুলের খাঁটি মধুর ১০টি বৈশিষ্ট্য
শিশুদের হামের সময় কি করতে হবে তার মধ্যে সবচেয়ে আগে আসে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ
ও নিয়ন্ত্রণ। নিচে কিছু কার্যকর ব্যবস্থা তুলে ধরছিঃ
- নিয়মিত তাপমাত্রা মাপুন। দিনে অন্তত তিনবার থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মাপুন। যদি জ্বর ১০১ ডিগ্রির ওপরে উঠে যায় তাহলে ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দিন।
- হালকা সুতির পোশাক পরান। শিশুকে কখনোই মোটা জামা কাপড়ে জড়াবেন না। সুতির হালকা জামা এবং পাতলা চাদর ব্যবহার করুন যাতে শরীর তাপ সহজে বের হতে পারে।
- কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিন। ঠান্ডা পানি ব্যবহার না করে কুসুম গরম পানিতে একটি পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে শিশুর শরীর ধীরে ধীরে মুছে দিন। এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।
- ঘরের পরিবেশ শীতল ও প্রশান্ত রাখুন। ঘরের আলো কম রাখুন, শব্দ কম করুন। একটানা বাতাস চলাচল যেন থাকে। আপনি চাইলে ফ্যান বা হালকা এসি ব্যবহার করতে পারেন, তবে সরাসরি শিশুর গায়ে বাতাস দিবেন না।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম নিশ্চিত করুন। হাম হওয়ার পর শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর বিছানাটি যেন নরম ও পরিষ্কার থাকে সেটা খেয়াল রাখুন।
- শিশুদের হাম হলে অনেকে শুধু ওষুধের ওপরই নির্ভর থাকেন কিন্তু বাস্তবে ঘরের পরিবেশ আর তাপমাত্রা ঠিক রাখাও শিশুর সুস্থতার কারণ।
হাম হলে শিশুর পুষ্টির গুরুত্ব
শিশুদের হাম হলে আমার অভিজ্ঞতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশুর পুষ্টি
নিশ্চিত করা। কারণ হাম শুধু ত্বকে দাগ ফেলে না ভেতরের শক্তিও নিঃশেষ করে দেয়।
এই সময়ে শিশুর ক্ষুধা কমে যায়, মুখে খাবার নিতে চায় না। আর আপনিও বুঝে উঠতে
পারেন না যে কি দিলে ওর শরীরে একটু জোর পাবে।
আমি একজন বাবা হিসেবে বলতে পারি বাচ্চার হাম হলে যত পারবেন ওর ঠোঁট ভেজা
রাখবেন। কখনো ডাবের পানি, কখনো গরম মাড়, কখনো এক চামচ করে খিচুড়ি দিতে পারেন।
শিশুদের হাম হলে প্রথমেই ভাবুন কিভাবে বাচ্চার শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি ফিরিয়ে
আনা যায়। চলুন এসময় পুষ্টির দিক থেকে যে খাবারগুলো গুরুত্বপূর্ণ আপনাদের সেগুলো
জানানোর চেষ্টা করি।
- তরল খাবার খাওয়ান। যেমন ডাবের পানি, লেবু পানি, ভাতের মাড় শিশুর শরীরে পানি খনিজ ধরে রাখে।
- খিচুড়ি, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, নরম ভাত, স্যুপ খাওয়ান যা শিশুর হজমে সহায়ক।
- ছোট ছোট পরিমাণে খেতে দিন। শিশুর ক্ষুধা না থাকলে ভয় পাবেন না। অল্প অল্প করে দিন, কিন্তু ঘন ঘন করে।
- ফল ও মিষ্টি জাতীয় নরম খাবার দিন। পাকা কলা বা নরম পেঁপে শিশুর শরীরের ভিটামিন ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।
- ভালোবাসে এমন পরিবেশ দিন। জোর করে না কোলে নিয়ে, আদর দিয়ে, গল্প করে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন।
মনে রাখবেন খাবার মানেই শুধু পেট ভরানো না এটা শিশুর সুস্থতার ভিত গড়ে তোলে।
চেষ্টা করুন সংকটময় সময়েও তাকে ভালোবাসা আর পুষ্টিতে জড়িয়ে রাখতে।
টিকা এবং পরবর্তী সতর্কতা
শিশুদের হাম হলে অনেকে চিকিৎসা, ঘরোয়া যত্ন বা খাবার নিশ্চিতকেই মনে করে।
কিন্তু ভুলে গেলে হবে না যে হাম রোগের প্রতিরোধ হিসেবে টিকার গুরুত্ব সবচেয়ে
বেশি। আমি নিজে এই বাস্তবতার স্বীকার যে হাম হলে শিশুর শরীর কতটা দুর্বল হয়ে
পড়ে। সেই কষ্ট যেন দ্বিতীয়বার না আসে সেজন্যই টিকা দেওয়াটা জরুরি। যদি আপনার
সন্তান হাম থেকে সেরে ওঠে তবুও সময়মতো ডাক্তারকে দেখিয়ে নিশ্চিত হতে হবে ওর
পরবর্তী টিকা কখন দিতেহবে। কারণ টিকা শুধু হাম নয়, ভবিষ্যতের আরো অনেক বিপদ
থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়। তবে টিকা দেওয়ার পর কিছু ছোটখাটো বিষয় খেয়াল রাখবেন।
যেমনঃ
- শিশুকে বিশ্রামে রাখুন, যেন ওর শরীরটা ধীরে ধীরে ঠিক হয়।
- টিকার জায়গা যেন পরিষ্কার ও শুকনো থাকে।
- হালকা জ্বর বা দুর্বলতা হলে ভয় পাবেন না, এটা অনেক সময় টিকার পর হয়ে থাকে।
- পানি, ডাবের পানি বা তরল খাবার বেশি দিন।
- টিকা নেওয়ার দিন একটু আদর করে পাশে থাকুন, বাচ্চা যেন ভয় না পায়।
- টিকা দেওয়ার স্থানে অনেক সময় ব্যথা হয়ে থাকে এবং জ্বরও আসতে পারে। তাই আতঙ্ক নয় সচেতন থাকুন।
আপনার শিশুকে টিকা দিয়ে শুধু ওষুধ দিচ্ছেন না, আপনি একটা আশ্বাস দিচ্ছেন যে
আপনার বাচ্চা এখন নিরাপদ।
জরুরি চিকিৎসার দরকার হলে করণীয়
আমরা সবসময় আশা করি শিশুর সমস্যা ঘরোয়া যত্নেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কখনো কখনো
এমন কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেগুলো অবহেলা করলে বিপদ বাড়তে পারে। তাই একজন
অভিভাবক হিসেবে আমাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, শিশুর শরীরের ভাষা বুঝতে শিখতে
হবে। নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দেরি না করে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে
যাবেন।
- জ্বর যদি তিন দিনের বেশি থাকে বা অনেক বেশি তাপমাত্রা হয়
- শিশুর শরীর খুব দুর্বল হয়ে গেলে, হাটতে বা খেলতে না চাইলে
- শিশুর চোখ লাল হয়ে পানি পড়া শুরু হলে
- মুখের ভেতর ঘা দেখা যায় বা কিছু খেতে না পারলে
- শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা গলা দিয়ে হাঁপ ধরা শব্দ শোনা গেলে
- চামড়ায় দাগ ছড়িয়ে পড়লে এবং চুলকানির মাত্রা বেড়ে গেলে
- শিশুর মল খুব পাতলা হলে বা বারবার বমি করতে থাকলে
এমন অবস্থায় নিজে নিজে ওষুধ না দিয়ে দ্রুত কোনো শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়াই
সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। অনেক সময় ছোট একটা দেরিই বড় জটিলতার কারণ হতে পারে।
আপনি ও আপনার শিশুর নিরাপত্তাই সবার আগে। প্রয়োজন মনে হলে সাহস করে সিদ্ধান্ত
নিতে হবে।
শেষ কথাঃ শিশুদের হাম হলে কি করনীয়
শিশুদের হাম হলে কি করনীয় এই প্রশ্নটা শুধু চিকিৎসার বিষয় না, এটা আমাদের
ভালোবাসা, সচেতনতা আর দায়িত্বের প্রকাশ। একজন বাবা হিসেবে আমি জানি সন্তানের
কষ্ট চোখের সামনে দেখা কতটা অসহ্য। তাই আমি চেয়েছি আমার অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদেরও
একটু পাশে থাকতে। আপনার সন্তান যদি হামে আক্রান্ত হয়, ভয় না পেয়ে ধাপে ধাপে
যত্ন নিন।
হাম রোগে করণীয় হিসেবে একেকজন অভিভাবকের কাছে একেক রকম হতে পারে। কিন্তু আমি
বিশ্বাস করি সচেতনতা, সময়মত চিকিৎসা, সঠিক খাবার, বিশ্রাম, পরিচ্ছন্নতা আর
একটুখানি ভালোবাসা এই কয়েকটা জিনিসই শিশুকে সুস্থতার দিকে ফেরাতে পারে। আমার এই
পোস্টটি যদি উপকারে আসে, তবে অন্য মা-বাবার সাথেও শেয়ার করুন।



ক্রিয়েটিভ ইনফো ৩৬০ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url