শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি
পোস্ট সূচিপত্রঃ শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি
- শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি
- টানট্রাম বলতে আসলে কী বোঝায়
- টানট্রাম সাধারণত কাদের হয়ে থাকে
- শিশুদের টানট্রাম রোগ কেন হয়
- টানট্রাম এর লক্ষণগুলো কী কী
- দোকানে বা বাইরে গেলে টানট্রাম কেন হয়
- টানট্রামের সময় যা যা করবেন
- টানট্রাম প্রতিরোধের বেশকিছু উপায়
- টানট্রাম এর দীর্ঘমেয়াদী সমাধান
- শেষ কথাঃ শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি
শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি
টানট্রাম বলতে আসলে কী বোঝায়
টানট্রাম শিশুদের মানসিক বা আবেগপ্রবণ আচরণের একটি রূপ, যখন তারা তাদের চাওয়া-পাওয়া, চাহিদা বা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে না তখন তার তীব্র আবেগের মাধ্যমে অর্থাৎ কান্না, চিৎকার, পা দাপানো, জিনিস ছুঁড়ে ফেলা, মাটিতে গড়াগড়ি করার মতো উত্তেজিত আচরণ আবার কখনো কখনো আক্রমণাত্মক আচরণের প্রকাশ করে। এটি সাধারণত শিশুরা হতাশা, ক্লান্তি অথবা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে এমন আচরণ করে। যা কখনো কখনো তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় অথবা দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়ে যায়।
শিশুদের মধ্যে যখন এমন মানসিকতা আসে যে "আমি কান্না করলে এটা পাব" অথবা "আমি জেদ করলে এটা পেয়ে যাব" তখন এমন আচরণ বারবার করতে থাকে তার চাওয়া পূরণ করার জন্য। টানট্রাম শিশুদের চোখে কোন পানি থাকে না, তারা এটা জেদবশত অথবা ইচ্ছাবশত করে থাকে যে "এটা আমাকে দিতেই হবে" আর তার চাওয়া একবার পূরণ হলে কান্না, জেদ থেমে যায়। তার চাওয়া পূরণ না হলেও কিছুক্ষণ পরে তার কান্না থেমে যাবে।
টানট্রাম সাধারণত কাদের হয়ে থাকে
শিশুদের টানট্রাম রোগ কেন হয়
2. মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা- শিশুরা তাদের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য এবং মা-বাবার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য জেদ করে থাকে যা তার টানট্রামের কারণ হতে পারে।
3. শারীরিক অসুস্থতা- সাধারণত এ সময় শিশুদের নতুন নতুন দাঁত ওঠে তখন ব্যথা হয়, ছোটরা তার সহ্য করতে না পেরে, ঘুমের অভাব হলে, ক্ষুধা লাগলে টানট্রাম এর মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে।
4. চাহিদা প্রকাশে অক্ষমতা- শিশুরা তাদের চাহিদা প্রকাশ করতে না পেরে তাদের তীব্র আচরণের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে যা টানট্রাম এর কারণ হতে পারে।
5. অতিরিক্ত শাসন- শিশুদের সব আচরণে যখন নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয় অথবা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করতে বাধ্য করা হয় তখন তারা টানট্রাম দেখাতে পারে। তারা নিষেধকের সম্মুখীন হলেও টানট্রাম দেখাতে পারে।
টানট্রাম এর লক্ষণগুলো কী কী
একটি মা অথবা বাবাকে তার সন্তানের সব জেদ পূরণ করতে নেই তাহলে সে আরো যদি হয়ে টানট্রাম প্রকাশ করবে আবার তার সব কান্নাকে, জেদকে এড়িয়ে চলা উচিত নয় কারণ তার কোন অস্বস্তিও হতে পারে। তাই মা বাবাকে বুঝতে হবে কোনটি তার টানট্রামের বহিঃপ্রকাশ। যে লক্ষণ গুলো দেখলে বুঝতে পারবেন সেটি ট্রানট্রাম, চলুন সেগুলো জেনে আসিঃ
- তীব্র কান্না বা জোরে জোরে চিৎকার করতে থাকে।
- মাটিতে গড়াগড়ি দেয় এবং হাত-পা ছোড়াছুড়ি ও পা দাপানো শুরু করে।
- হাতের কাছে জিনিসপত্র থাকলে ভাংচুর বা ছুড়ে মারে।
- নিজেকেও আঘাত করতে পারে। নিজের নখ দিয়ে নিজের চামড়া টানে, মাথা ঠোকা, চুল টানা।
- অতিরিক্ত রাগ বা অস্থিরতা প্রকাশ করে।
- অন্যকে আঘাত করতে থাকে।
- ইচ্ছাপূরণের সঙ্গে সঙ্গে কান্না থামিয়ে দেয়।
অনেক সময় তাদের চোখে পানি লক্ষ্য করা যায় না কারণ তারা যেহেতু শুধুমাত্র রাগ দেখায় ইচ্ছা পূরণের জন্য।
দোকানে বা বাইরে গেলে টানট্রাম কেন হয়
সাধারণত শিশুরা টানট্রাম প্রকাশ করে বাইরে গেলে অথবা দোকানে গেলে। বাসায় তারা তেমন টানট্রাম প্রকাশ করে না তাই মা-বাবাদের কেমন সমস্যা হয় না কিন্তু বাইরে গেলে তারা জেদ করে এই জন্য হয়তো মা-বাবাদের বলতে শুনবেন "ও বাসায় তো এমন জেদ করে না"। দোকানে বা বাইরে গেলে টানট্রাম হওয়ার কিছু সাধারণ কারণ আছে চলুন সেগুলো জেনে আসিঃ
- দোকানের উজ্জ্বল আলো, ভিড়, বিভিন্ন আকর্ষণীয় খেলনা, বিভিন্ন রঙের খেলনা তার কাছে আকর্ষণীয় লাগে তখন সেসব জিনিস তাকে অস্থির করে এবং কেনার জন্য জেদ করতে থাকে।
- পছন্দের চকলেট বা খাবার চোখে পড়লে।
- তার ইচ্ছা পূরণ না করলে অর্থাৎ খেলনা বা চকলেট কিনে না দেওয়াই জেদ করে।
- মা-বাবা মনোযোগী না হলে অর্থাৎ মা-বাবার আকর্ষণ পাওয়ার জন্য ট্রানট্রাম দেখাতে পারে।
- বাইরে বেশিক্ষণ থাকলে শিশু ক্লান্ত হলে অথবা ক্ষুধার্ত হলে টানট্রাম প্রকাশ করে।
টানট্রামের সময় যা যা করবেন
টানট্রাম প্রতিরোধের বেশকিছু উপায়
- শিশুদের জন্য নিয়মিত রুটিন মেনে চলুন। শিশুদেরকে নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ানো, ঘুমানো, খেলার রুটিন তৈরি করে দিন। যাতে তার অস্বস্তি না হয় অর্থাৎ যে কোন কাজে তাকে মনোযোগী করান।
- অবশ্যই শিশুর চাহিদা বুঝুন। শিশু ক্ষুধার্ত কিনা, শিশুর শারীরিক কোন অস্বস্তি হচ্ছে কিনা অথবা তার জেদ, কান্না টানট্রাম কিনা। তারপর পদক্ষেপ নিন।
- শিশুকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগে বোঝান যে "তুমি কান্না না করলে চকলেট দিবো" তাহলে শিশু জেদ করবে না।
- শিশুকে বোঝান যে বাইরে গেলে এমনটা করবে, এমন করবে না। শিশুকে স্পষ্টভাবে জানান কি করা যাবে, কি করা যাবে না।
- শিশুর সাথে ইতিবাচক আচরণ করুন, তার প্রশংসা করুন। এতে শিশু ইতিবাচক আচরণে উৎসাহিত হবে।
টানট্রাম এর দীর্ঘমেয়াদী সমাধান
টানট্রাম কমাতে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিতে পারেনঃ- শিশুকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখান। যেহেতু সে শিশু তার বুঝতে সময় লাগবে তাই আপনাকে ধৈর্য নিয়ে তাকে বোঝাতে হবে তাহলে শিশুর বয়স ও বিকাশের সাথে সাথে এটি কমে যাবে।
- যেহেতু শিশুর ভাষার দক্ষতা ঠিকমতো হয় না তাই সে এমন আচরণ করে। সেজন্য তার ভাষার বিকাশ ঘটাতে সময় দিন এবং তার চাহিদা ভাষায় প্রকাশ করতে উৎসাহিত করুন। এটি ট্রানট্রাম কমাতে সাহায্য করে।
- শিশুকে শুধু আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা শিখালে হবে না তাকে ধৈর্য ধরতে অথবা অপেক্ষা করতে শেখান। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে তাকে ধৈর্য ধরতে শেখান।
- শিশুকে বেশি করে সময় দিন এবং প্রধান যে শিশু আপনাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাকে তার প্রয়োজন বোঝার এবং তার সাথে মানসিক সংযোগ তৈরি করুন। এটি তাদের নিরাপত্তার অনুভূতি দিবে।
- যদি দেখেন যে এটিও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না তাহলে শিশু মনোবিদ অথবা পেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ গ্রহণ করুন।



ক্রিয়েটিভ ইনফো ৩৬০ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url