শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি

আজকে আমরা আলোচনা করব শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি।প্রত্যেক মা-বাবাকেই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয় আর এমন পরিস্থিতি তাদেরকে লজ্জা সম্মুখীনে ফেলায়। তাই এরকম পরিস্থিতিতে মা-বাবা হিসেবে আপনার করণীয় কি তাই আজকে আলোচনা করব।
শিশুদের-টানট্রাম-হলে-করণীয়-কি
শিশুদের তীব্র আবেগের প্রকাশ হলো টানট্রাম যা মোটামুটি সব বাচ্চাদের মধ্যেই লক্ষ্য করা যায়। এটা তাদের চাওয়া বা ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ যা নেকি কান্নার মত। আপনি যদি এরকম পরিস্থিতিতে পড়ে থাকেন তাহলে কি করবেন জানতে আজকের পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি

শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি

আজকে আমরা আলোচনা করব শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি কারণ শিশুরা তো কাঁদবেই কিন্তু সেই কান্না যখন তার ইচ্ছাকৃত ক্রোধ বা খুবই পরিণত হয়ে যায় তখন মা-বাবাকে বিভিন্ন স্থানে খারাপ
পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তার সন্তানের জেদের কারণে। বিশেষ করে কোন দোকানে গেলে নতুন নতুন আকর্ষণীয় রংয়ের খেলনা দেখলে সে এমনটা জেদ করে বসে তখন খেলনা কিনে দিতে রাজি না হওয়ায় দোকানের মেঝেতে শুয়ে হাত-পা ছুড়ে, কাঁদতে শুরু করে শিশুটি তখন বাধ্য হয়ে মা-বাবা তাকে খেলাটি কিনে দেয়। তার চাওয়া বারবার পূরণ করায় তার মনোভাব তৈরি হয়ে যায় যে "যা চাই তাই দিয়ে দেয়" তখনই সে বারবার এমন জেদ করতে থাকে যা দিন দিন অভিভাবকের মানসিক অশান্তির কারণ হয়। তাই আজকের পোস্টে আমরা সেসব অভিভাবকদেরকে জানাবো শিশুদের টানট্রাম হলে আমাদের আসলে করণীয় কি।
এমন পরিস্থিতি শুধুমাত্র মা-বাবাকে সামলাতে হবে এবং বুদ্ধের সাথে সামলাতে হবে। শিশুকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার আগে শিশুকে খাইয়ে, ঘুম পাড়িয়ে অথবা শিশুর পছন্দের খেলনা সহ বাইরে নিয়ে গেলে অনেক সময় সে এমন জেদ করে না। তাও যদি সে এমন জেদ করতে থাকে তাহলে তার মনোযোগ অন্যদিকে সরান যেমন- তাকে কোন গল্প শুনান বা অন্য কোন খেলায় মনোযোগী করুন অথবা কোন শান্ত জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাকে শান্ত হতে সময় দিন। শান্ত হওয়ার পরে তার সাথে ইতিবাচক আচরণ করুন যেমন- তার প্রশংসা করুন, ছোট কোন পুরস্কার দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করুন সেটা চকলেট হোক অথবা কোন খেলনা হোক।

টানট্রাম বলতে আসলে কী বোঝায় 

টানট্রাম শিশুদের মানসিক বা আবেগপ্রবণ আচরণের একটি রূপ, যখন তারা তাদের চাওয়া-পাওয়া, চাহিদা বা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে না তখন তার তীব্র আবেগের মাধ্যমে অর্থাৎ কান্না, চিৎকার, পা দাপানো, জিনিস ছুঁড়ে ফেলা, মাটিতে গড়াগড়ি করার মতো উত্তেজিত আচরণ আবার কখনো কখনো আক্রমণাত্মক আচরণের প্রকাশ করে। এটি সাধারণত শিশুরা হতাশা, ক্লান্তি অথবা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে এমন আচরণ করে। যা কখনো কখনো তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় অথবা দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়ে যায়।

শিশুদের মধ্যে যখন এমন মানসিকতা আসে যে "আমি কান্না করলে এটা পাব" অথবা "আমি জেদ করলে এটা পেয়ে যাব" তখন এমন আচরণ বারবার করতে থাকে তার চাওয়া পূরণ করার জন্য। টানট্রাম শিশুদের চোখে কোন পানি থাকে না, তারা এটা জেদবশত অথবা ইচ্ছাবশত করে থাকে যে "এটা আমাকে দিতেই হবে" আর তার চাওয়া একবার পূরণ হলে কান্না, জেদ থেমে যায়। তার চাওয়া পূরণ না হলেও কিছুক্ষণ পরে তার কান্না থেমে যাবে।

টানট্রাম সাধারণত কাদের হয়ে থাকে

যেসব শিশুরা "টডলার বা প্রি-স্কুলার" অর্থাৎ যারা সাধারনত ১-৪ বছর বয়সী শিশু তাদের মধ্যে টানট্রাম বেশি দেখা যায়। এই বয়সে শিশুরা নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করতে শেখে কিন্তু সাধারণত তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা গড়ে ওঠে না তাই তাদের মধ্যে এমন আচরণ দেখা যেতে পারে তবে আপনি জানলে অবাক হবেন বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এই আচরণ দেখা যায় তারা তাদের পরিবারকে ইমোশনাল ভাবে তাদের যে পূরণ করিয়ে নেয়। আর এটা তখনই দেখা যায় যখন তাদের মধ্যে আবেগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা থাকে।
মূলত এরকম বয়সী শিশুদের মধ্যে যাদের ভাষার বিকাশ ঠিকমতো হয়নি অথবা ভাষাগত দক্ষতা পুরোপুরি অর্জন হয়নি তাদের মানসিক অস্থিরতার কারণে এমন আচরণ করে থাকে। যেসব শিশু ক্ষুধার্ত বা অসুস্ত হয়, ক্লান্ত হয় তখন তারা কান্না করতে পারে তাই বাচ্চাদের কান্না কি সব সময় টানট্রাম ধরে নিয়ে তার সাথে নেতিবাচক আচরণ করা যাবে না, সন্তানের আচরণ কে বুঝতে হবে। শিশু যদি অটিজম বা পিসির চাহিদা সম্পন্ন শিশু হয়ে থাকে তাহলেও সে কোন কারণ ছাড়াই জেদ করতে পারে।

শিশুদের টানট্রাম রোগ কেন হয়

শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি তা জানার আগে আমাদের জানা উচিত শিশুদের টানট্রাম রোগ কেন হয়। আমরা এর আগে টানট্রাম এর কিছু কারণ আলোচনা করেছি। বাচ্চার যদি ভাষাগত বিকাশ ঠিকমতো না হয়, শিশু সন্তান যদি অটিজমে আক্রান্ত হয়ে থাকে অথবা শিশু যদি ক্ষুধার্ত বা অসুস্থ থাকে তখন টানট্রাম দেখা যেতে পারে। এছাড়াও এর আরো কিছু বহিঃপ্রকাশ আছে চলুন সেগুলো জেনে আসিঃ
শিশুদের-টানট্রাম-হলে-করণীয়-কি-জানুন-বিস্তারিত-বিষয়

1. আবেগ নিয়ন্ত্রণের অভাব- শিশুরা সাধারণত তাদের আবেগ, ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তাইতো তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের রাগ, দুঃখ, হতাশা, জেদ প্রকাশ করে থাকে। যেহেতু তারা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তাই তাদের আচরণ টানট্রাম হিসেবে প্রকাশ পায়।

2. মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা- শিশুরা তাদের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য এবং মা-বাবার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য জেদ করে থাকে যা তার টানট্রামের কারণ হতে পারে।

3. শারীরিক অসুস্থতা- সাধারণত এ সময় শিশুদের নতুন নতুন দাঁত ওঠে তখন ব্যথা হয়, ছোটরা তার সহ্য করতে না পেরে, ঘুমের অভাব হলে, ক্ষুধা লাগলে টানট্রাম এর মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে।

4. চাহিদা প্রকাশে অক্ষমতা- শিশুরা তাদের চাহিদা প্রকাশ করতে না পেরে তাদের তীব্র আচরণের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে যা টানট্রাম এর কারণ হতে পারে।

5. অতিরিক্ত শাসন- শিশুদের সব আচরণে যখন নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয় অথবা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করতে বাধ্য করা হয় তখন তারা টানট্রাম দেখাতে পারে। তারা নিষেধকের সম্মুখীন হলেও টানট্রাম দেখাতে পারে।

টানট্রাম এর লক্ষণগুলো কী কী

একটি মা অথবা বাবাকে তার সন্তানের সব জেদ পূরণ করতে নেই তাহলে সে আরো যদি হয়ে টানট্রাম প্রকাশ করবে আবার তার সব কান্নাকে, জেদকে এড়িয়ে চলা উচিত নয় কারণ তার কোন অস্বস্তিও হতে পারে। তাই মা বাবাকে বুঝতে হবে কোনটি তার টানট্রামের বহিঃপ্রকাশ। যে লক্ষণ গুলো দেখলে বুঝতে পারবেন সেটি ট্রানট্রাম, চলুন সেগুলো জেনে আসিঃ

  • তীব্র কান্না বা জোরে জোরে চিৎকার করতে থাকে।
  • মাটিতে গড়াগড়ি দেয় এবং হাত-পা ছোড়াছুড়ি ও পা দাপানো শুরু করে।
  • হাতের কাছে জিনিসপত্র থাকলে ভাংচুর বা ছুড়ে মারে।
  • নিজেকেও আঘাত করতে পারে। নিজের নখ দিয়ে নিজের চামড়া টানে, মাথা ঠোকা, চুল টানা।
  • অতিরিক্ত রাগ বা অস্থিরতা প্রকাশ করে।
  • অন্যকে আঘাত করতে থাকে।
  • ইচ্ছাপূরণের সঙ্গে সঙ্গে কান্না থামিয়ে দেয়।

অনেক সময় তাদের চোখে পানি লক্ষ্য করা যায় না কারণ তারা যেহেতু শুধুমাত্র রাগ দেখায় ইচ্ছা পূরণের জন্য।

দোকানে বা বাইরে গেলে টানট্রাম কেন হয়

সাধারণত শিশুরা টানট্রাম প্রকাশ করে বাইরে গেলে অথবা দোকানে গেলে। বাসায় তারা তেমন টানট্রাম প্রকাশ করে না তাই মা-বাবাদের কেমন সমস্যা হয় না কিন্তু বাইরে গেলে তারা জেদ করে এই জন্য হয়তো মা-বাবাদের বলতে শুনবেন "ও বাসায় তো এমন জেদ করে না"। দোকানে বা বাইরে গেলে টানট্রাম হওয়ার কিছু সাধারণ কারণ আছে চলুন সেগুলো জেনে আসিঃ

  • দোকানের উজ্জ্বল আলো, ভিড়, বিভিন্ন আকর্ষণীয় খেলনা, বিভিন্ন রঙের খেলনা তার কাছে আকর্ষণীয় লাগে তখন সেসব জিনিস তাকে অস্থির করে এবং কেনার জন্য জেদ করতে থাকে।
  • পছন্দের চকলেট বা খাবার চোখে পড়লে।
  • তার ইচ্ছা পূরণ না করলে অর্থাৎ খেলনা বা চকলেট কিনে না দেওয়াই জেদ করে।
  • মা-বাবা মনোযোগী না হলে অর্থাৎ মা-বাবার আকর্ষণ পাওয়ার জন্য ট্রানট্রাম দেখাতে পারে।
  • বাইরে বেশিক্ষণ থাকলে শিশু ক্লান্ত হলে অথবা ক্ষুধার্ত হলে টানট্রাম প্রকাশ করে।

টানট্রামের সময় যা যা করবেন

টানট্রামের সময় মা-বাবাকেই পরিস্থিতি সামলাতে হবে তাই এই সময় শান্ত থাকা বেশি জরুরী। শান্ত থেকে পরিস্থিতিকে সামলাতে হবে। এছাড়া আর কি করতে পারেন চলুন সেগুলো জেনে আসিঃ
শিশুদের-টানট্রাম-হলে-করণীয়-কি-বিস্তারিত

1. শান্ত থাকুন- বাচ্চা জেদ করলে নিজে উত্তেজিত হয়ে পড়বেন না কারণ আপনি শাসন করলে বাচ্চা আরো জেদ করতে পারে। তাই গভীর শ্বাস নিন এবং শান্ত থাকুন।
2. মনোযোগ না দেওয়া- আপনি যদি খেয়াল করেন টানট্রাম মনোযোগ আকর্ষণের জন্য করছে তাহলে এমন একটা ভাব করেন যে তার কান্না আপনি দেখেননি। তবে তার নিরাপত্তার বিষয়টি খেয়াল করবেন শিশু যেন নিজেকে আঘাত না করে।

3. শিশুকে বোঝান- আপনি উত্তেজিত না হয়ে শিশুকে শান্ত করুন এবং শিশু শান্ত হলে তার সাথে নরম সুরে কথা বলুন। তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন এবং সান্তনা দিন।

4. শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন- কিছু যেন জেদের বশে নিজেকে আঘাত না করে তা খেয়াল করুন এবং অন্য জায়গায় নিয়ে যে শান্ত করুন।

5. দৃঢ় থাকুন- শিশু যদি টানট্রাম প্রকাশ করে তাহলে আপনি তার দাবি পূরণ করবেন না। তাহলে তার এরকম মানসিকতা আসবে যে ট্রানট্রাম করে কোন কিছু পাওয়া যাবে না।

টানট্রাম প্রতিরোধের বেশকিছু উপায়

শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি চলুন এই বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ জেনে নেওয়া যাক। শিশু যেন টানট্রাম প্রকাশ করতে না পারে তাই মা-বাবাকে কিছু প্রতিরোধমূলক কৌশল অবলম্বন করতে হবে। চলুন সেগুলো জানা যাকঃ
  • শিশুদের জন্য নিয়মিত রুটিন মেনে চলুন। শিশুদেরকে নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ানো, ঘুমানো, খেলার রুটিন তৈরি করে দিন। যাতে তার অস্বস্তি না হয় অর্থাৎ যে কোন কাজে তাকে মনোযোগী করান।
  • অবশ্যই শিশুর চাহিদা বুঝুন। শিশু ক্ষুধার্ত কিনা, শিশুর শারীরিক কোন অস্বস্তি হচ্ছে কিনা অথবা তার জেদ, কান্না টানট্রাম কিনা। তারপর পদক্ষেপ নিন।
  • শিশুকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগে বোঝান যে "তুমি কান্না না করলে চকলেট দিবো" তাহলে শিশু জেদ করবে না।
  • শিশুকে বোঝান যে বাইরে গেলে এমনটা করবে, এমন করবে না। শিশুকে স্পষ্টভাবে জানান কি করা যাবে, কি করা যাবে না।
  • শিশুর সাথে ইতিবাচক আচরণ করুন, তার প্রশংসা করুন। এতে শিশু ইতিবাচক আচরণে উৎসাহিত হবে।

টানট্রাম এর দীর্ঘমেয়াদী সমাধান

টানট্রাম কমাতে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিতে পারেনঃ
  • শিশুকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখান। যেহেতু সে শিশু তার বুঝতে সময় লাগবে তাই আপনাকে ধৈর্য নিয়ে তাকে বোঝাতে হবে তাহলে শিশুর বয়স ও বিকাশের সাথে সাথে এটি কমে যাবে।
  • যেহেতু শিশুর ভাষার দক্ষতা ঠিকমতো হয় না তাই সে এমন আচরণ করে। সেজন্য তার ভাষার বিকাশ ঘটাতে সময় দিন এবং তার চাহিদা ভাষায় প্রকাশ করতে উৎসাহিত করুন। এটি ট্রানট্রাম কমাতে সাহায্য করে।
  • শিশুকে শুধু আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা শিখালে হবে না তাকে ধৈর্য ধরতে অথবা অপেক্ষা করতে শেখান। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে তাকে ধৈর্য ধরতে শেখান।
  • শিশুকে বেশি করে সময় দিন এবং প্রধান যে শিশু আপনাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাকে তার প্রয়োজন বোঝার এবং তার সাথে মানসিক সংযোগ তৈরি করুন। এটি তাদের নিরাপত্তার অনুভূতি দিবে।
  • যদি দেখেন যে এটিও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না তাহলে শিশু মনোবিদ অথবা পেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

শেষ কথাঃ শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি

আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি শিশুদের টানট্রাম হলে করণীয় কি। প্রত্যেক মা-বাবাদেরই বোঝা উচিত তার শিশু কেন জেদ করছে, কেন কান্না করছে, এটা যে টানট্রাম নাকি তার শারীরিক অসুস্থতার বহিঃপ্রকাশ তা একজন মা-বাবাকে বুঝতে হবে। আজকে এসবই আলোচনা করা হয়েছে তাই আশা করি আজকের পোস্টে থেকে আপনি উপকৃত হয়েছেন।

আমার মতে আমার মতে শিশুদের টানট্রাম কোনো খারাপ আচরণ নয়, বরং এটি তাদের অনুভূতি প্রকাশের একটি স্বাভাবিক উপায়। এই সময় তাদের উপর রাগ করা বা জোর করে থামানোর চেষ্টা না করে, ধৈর্য ধরে বোঝার চেষ্টা করা উচিত তারা আসলে কী বলতে চাচ্ছে। অনেক সময় শিশুরা নিজেদের অনুভূতি ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না, তাই কান্না বা রাগের মাধ্যমে সেটা প্রকাশ করে। তাই অভিভাবকদের উচিত ভালোবাসা, সময় এবং সহানুভূতির মাধ্যমে তাদের পাশে থাকা। ধীরে ধীরে সঠিকভাবে গাইড করলে শিশুরা নিজেই নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ক্রিয়েটিভ ইনফো ৩৬০ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url