রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে করনীয় কি

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে করনীয় কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার পাশাপাশি আপনাদের একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। আজকাল আমরা অনেকেই বিভিন্ন কারণে রক্তস্বল্পতাই ভুগছি তাই আমাদের এর প্রতিরোধ সম্পর্কে জানা দরকার।

রক্তস্বল্পতা-প্রতিরোধে-করনীয়-কি
রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা। রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা অনেক সময় অন্য কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে তাই এই বিষয় এড়িয়ে গেলে আমাদের চলবে না। তো চলুন রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে আমাদের করনীয় কি জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

পোস্ট সূচীপত্রঃ রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে করনীয় কি

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে করনীয় কি

এখন আমরা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে করনীয় কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং রক্তসল্পতা প্রতিরোধের সকল উপায় সম্পর্কে আপনাদের জানাবো। রক্তস্বল্পতা বলতে মূলত আমাদের শরীরে লোহিত রক্ত কণিকা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়াকে বোঝায়।রক্তস্বল্পতাকে ডাক্তারি ভাষায় অ্যানিমিয়া বলা হয়ে থাকে। আমাদের দেহের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা থাকে এবং এই লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামে একটি উপাদান থাকে এটি মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি যা আমাদের দেহের বিভিন্ন অংশে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন বহন করে।তাই রক্তস্বল্পতা বলতে মূলত রক্ত কমে যাওয়া নয় বরং দেহের রক্তে লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়াকে বোঝায়।তাই রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে আমাদের পালংশাক, শিম ও শিমের বিচি, কাঁচাকলা, ফুলকপি, কলিজা, সামুদ্রিক মাছ, দুধ, ডিম, খেজুর, মুরগির কলিজা, গরু এবং খাসির মাংস সহ বিভিন্ন আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

রক্তস্বল্পতা একটি জটিল সমস্যা তাই রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে আমাদের অবশ্যই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। রক্তস্বল্পতা সাধারণত কোনো রোগ নয় বরং অন্য কোনো রোগের লক্ষণ হিসেবে কাজ করে তাই রক্তস্বল্পতা  প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের আগে শরীরে কোন রোগের জন্য রক্তস্বল্পতা হচ্ছে তা আগে শনাক্ত করতে হবে। এছাড়াও আমাদের শরীরে আয়রনের অভাব হলে রক্তস্বল্পতার মতো সমস্যা হয় তাই আমাদের বেশি বেশি আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে যেমন দুধ, ডিম, মাংস, মুরগির কলিজা ইত্যাদি। আয়রন সমৃদ্ধ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, কার্বোহাইড্রেইড ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারও আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এই খাবারগুলো খেলে আমাদের শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি হবে এবং ফলস্বরূপ রক্ত শূন্যতা বা স্বল্পতা প্রতিরোধ হবে।

রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা আসলে কী

আমরা ইতিমধ্যে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা কী তা নিয়ে কিছুটা আলোচনা করেছি রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা দুটি জিনিসই মূলত একই। রক্তস্বল্পতাকে ডাক্তারি ভাষায় অ্যানিমিয়া বলা হয়ে থাকে। আমাদের দেহের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা থাকে এবং এই লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামে একটি উপাদান থাকে এটি মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি যা আমাদের দেহের বিভিন্ন অংশে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন বহন করে। তাই রক্তস্বল্পতা বলতে মূলত রক্ত কমে যাওয়া নয় বরং দেহের রক্তে লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়াকে বোঝায়।
রক্তশূন্যতা বা রক্তস্বল্পতা সাধারণত কোনো রোগের উপসর্গ হিসেবে আমাদের শরীরে প্রকাশ পাই তাই সবার আগে রক্তসল্পতা প্রতিরোধ করার জন্য শরীরে আমাদের কোনো রোগ আছে কিনা তা আগে আমাদের নির্ণয় করতে হবে। রক্তস্বল্পতা মানে যেহেতু রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া নয় বরং রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ অর্থাৎ শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া তাই রক্তস্বল্পতা নির্ণয় করার জন্য আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ পরীক্ষা করতে হবে। রক্তস্বল্পতা বা শূন্যতা একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং জটিল সমস্যা বিশ্বব্যাপী প্রায় অধিকাংশ শিশু এবং নারীরা সাধারণত এই রোগে ভোগে। তাই রক্তস্বল্পতাকে আমাদের অবহেলা না করে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

কেন আমাদের রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা হয়

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে করনীয় কি এই বিষয়ে জানার আগে আমাদের জানতে হবে কেন আমাদের রক্তস্বল্পতা বা শূন্যতার মতো সমস্যা হয় আমরা যদি আগে রক্তশূন্যতা হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি তাহলে আমরা এই রোগ হওয়া থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারবো।আমরা আগেই বলেছি রক্তস্বল্পতা মূলত রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলে হয়ে থাকে তাই আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কেন কমে যায় তা আগে আমাদের জানতে হবে। সাধারণত হিমোগ্লোবিনের অভাব হয় আমাদের দেহে আয়রনের অভাব হওয়ার ফলে তাই আমাদের বেশি বেশি আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা ওয়েবসাইটের দেওয়া তথ্য মতে আমাদের শরীরে বেশ কিছু কারণে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় যেমন আমাদের শরীরে যদি কোনো ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং অনেক রক্ত শরীর থেকে বের হয়ে যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিনের অভাব হতে পারে।  আবার অনেক সময় আমাদের শরীর পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না বা হিমোগ্লোবিন তৈরি করলেও শরীর তা নিজেই ধ্বংস করে। মূলত এই সকল জটিল কারণে আমাদের রক্তস্বল্পতা বা শূন্যতার মতো সমস্যা হয়। 

রক্তস্বল্পতার উপসর্গগুলো কী কী

আমাদের রক্তস্বল্পতা আছে কিনা তা বোঝার জন্য বেশ কিছু উপসর্গ রয়েছে যেহেতু রক্তস্বল্পতা সাধারণত কোনো রোগ নয় বরং অন্য কোনো রোগের লক্ষণ হিসেবে আমাদের শরীরে প্রকাশ পায় তাই বিভিন্ন রোগের উপসর্গ বিভিন্ন রকম হতে পারে। আমাদের শরীরে রক্তস্বল্পতা থাকলে সাধারণত ক্লান্তি, দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হতে পারে এছাড়া রক্তস্বল্পতা হওয়ার ফলে আমাদের ত্বক এবং চেহারা ফ্যাকাসে দেখাতে পারে। এগুলো ছাড়াও বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা রক্তশূন্যতার ফলে হতে পারে।
রক্তস্বল্পতা-প্রতিরোধে-করনীয়-কি-জানুন-বিস্তারিত-সকল-বিষয়
এই উপসর্গ গুলো ছাড়াও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা বিশেষ ক্ষেত্রে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, চুল পড়ে যাওয়া এবং শরীরে ঘা সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যা বা উপসর্গ গুলো দেখা দিলে আমাদের অবশ্যই উপযুক্ত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমাদের শরীরে রক্তস্বল্পতা আছে কিনা তা নির্ণয় করতে হবে। রক্তশূন্যতা নির্ণয় করার জন্য আমাদের ব্লাড টেস্ট করে সেই ব্লাড টেস্টে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ দেখতে হবে যদি হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৩ এর কম হয় এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ১২ এর কম হয় তাহলে রক্তস্বল্পতা আছে বলে ধরে নিতে হবে।

রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে আয়রনের ভূমিকা

আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি যে রক্তস্বল্পতা সাধারণত শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা অভাবের কারণে হয়ে থাকে তাই আমাদের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করার জন্য বেশি বেশি আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে এবং আমাদের শরীরে যাতে আয়রনের ঘাটতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। রক্তস্বল্পতা বা শূন্যতা প্রতিরোধে আয়রনের ভূমিকা অপরিহার্য কারণ আয়রন লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে এবং এই হিমোগ্লোবিন আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ করে থাকে। তাই হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।

যেহেতু আয়রন সমৃদ্ধ খাবার আমাদের রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে তাই আমাদের আয়রন সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে আগে জানতে হবে। কচু, কচু শাক ও কচুজাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে এছাড়াও পালংশাক, শিম ও শিমের বিচি, কাঁচাকলা, ফুলকপি, কলিজা, সামুদ্রিক মাছ, দুধ, ডিম, খেজুর, মুরগির কলিজা, গরু বা খাসির মাংসও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার। রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে আমাদের আয়রন সমৃদ্ধ এই খাবারগুলো খেতে হবে। আমাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি না হলে হিমোগ্লোবিনেরও ঘাতটি হবে না এবং রক্তস্বল্পতার মতো রোগ হবে না।

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে পালংশাক ও ডালের ভূমিকা

এবার আমরা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে করনীয় কি এই বিষয়ে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন পালংশাক ও ডালের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো পালংশাক এবং ডাল শুধু আয়রনের ঘাটতি নয় বরং শরীরের আরও বেশ কিছু উপকারে আসে তাই এই দুটি উপাদান সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত। পালংশাক সাধারণত শীতকালে পাওয়া যায় এবং এটি রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর চিকিৎসকদের মতে ঘরোয়া উপায়ে রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে পালংশাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ প্রায় প্রতি ১০০ গ্রাম পালংশাকে ২.৭ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। এছাড়া পালংশাকে থাকে ভিটামিন সি বা ফলিক অ্যাসিড যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। 
পালংশাকের পাশাপাশি আয়রনের চাহিদা পূরণ করতে এবং রক্তস্বল্পতা দূর করতে ডাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ঠিক রাখতে আমরা প্রতিদিন মুগডাল, মসুর ডাল এবং মাসকালাইয়ের ডাল খেতে পারি। এগুলো সাধারণত আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ঠিক রাখে পাশাপাশি ডাল সহজলভ্য এবং প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। 

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে খাসির মাংস ও কলিজার ভূমিকা

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে আমাদের খাসির মাংস বা যেকোনো মাংসের কলিজা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাসির জেকন প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যে আমাদের আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে এছাড়াও খাসির মাংসে যে আয়রন থাকে তা উদ্ভিদজাত আয়রনের তুলনায় আমাদের শরীর অনেক দ্রুত শোষণ করতে পারে পাশাপাশি খাসির মাংসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন জিঙ্ক এবং প্রোটিন। 
রক্তস্বল্পতা-প্রতিরোধে-করনীয়-কি-জানুন-বিস্তারিত
খাসির মাংসের পাশাপাশি যেকোনো মাংসের কলিজা আমাদের দেহে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাংসের মতো কলিজাতেও যে আয়রন রয়েছে উদ্ভিদজাত যেকোনো আয়রনের তুলনায় তা আমাদের দেহে অধিক তাড়াতাড়ি শোষণ হয়। এছাড়াও এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, আয়রন , ভিটামিন এ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, জিঙ্ক ও ফলিক এসিড। তাই আমাদের বিভিন্ন মাংসের কলিজা খাওয়া উচিত রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য।

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে দুধ, মাছ এবং ফলমূলের উপকারিতা

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে দুধ মাছ এবং বিভিন্ন ফলমূলেরও বেশ উপকারিতা রয়েছে। রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে দুধ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান দুধে খুব বেশি পরিমাণে আয়রন না থাকলেও এতে প্রায় বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে। দুধে পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে যা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে রক্তশূন্যতা দূর করে। দুধের পাশাপাশি মাছও আয়রনের একটি ভালো উৎস সামুদ্রিক মাছে খুব বেশি পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায় তাই আয়রনের একটি ভালো উৎস হিসেবে আমরা বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ খেতে পারি

দুধ এবং মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন ফলমূল আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি আয়রনের চাহিদাও পূরণ করে যা আমাদের দেহে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়াতে খুবই কার্যকারী ভূমিকা পালন করে । ফলমূলে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যেমন আপেল, টমেটো, বেদানা, কলা, আঙ্গুর, কমলা, গাজর ইত্যাদি খেলে আমরা প্রচুর পরিমাণে আয়রন পাবো এবং আমাদের দেহে আয়রনের চাহিদা পূরণ হবে। রক্তশূন্যতা থাকে বাঁচার জন্য আমাদের নিয়মিত প্রতিদিন দুই বা তিনটি করে ফল খাওয়া উচিত ফল খাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন শাকসবজি যেমন শিম ও শিমের বিচি, কাঁচাকলা, ফুলকপি, টমেটো, সয়াবিন ইত্যাদি রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

রক্তস্বল্পতা থেকে বেঁচে থাকার উপায়

ইতিমধ্যে আমরা রক্তস্বল্পতা হওয়ার বেশ কিছু কারণ সম্পর্কে আলোচনা করেছি তাই আমাদের রক্তস্বল্পতা হওয়া থেকে বেঁচে থাকার জন্য সেই কারণগুলো বিবেচনা করে সেই কারণগুলো থেকে আগে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সর্বপ্রথম আয়রনের ঘাটতি হলে আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় এবং রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় তাই আমাদের দেহে যাতে আয়রনের অভাব না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং এইজন্য আমাদের বেশি বেশি আয়নসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। 
আমরা যদি আগে রক্তশূন্যতা হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি তাহলে আমরা এই রোগ হওয়া থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারবো। আমরা আগেই বলেছি রক্তস্বল্পতা মূলত রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলে হয়ে থাকে। রক্তস্বল্পতা সাধারণত আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগের প্রভাবে হয়ে থাকতে পারে তাই রক্তস্বল্পতা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের নিয়মিত আয়রন এবং বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করার পাশাপাশি রক্তস্বল্পতার উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। তাহলে আমাদের রক্তস্বল্পতা হলে অতি দ্রুত তা থেকে নিরাময় পাওয়া যাবে।

শেষ কথাঃ রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে করনীয় কি

উপরের এই আর্টিকালে আমরা এতক্ষণ রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে করনীয় কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলাম এবং রক্তস্বল্পতা হওয়ার থেকে বেঁচে থাকার করনীয় কি তা জানিয়ে দিলাম। মূলত রক্তস্বল্পতা একটি অত্যন্ত জটিল এবং গুরুতর অবস্থা সাধারণত এটি কোনো রোগ না বরং অন্য কোনো রোগের লক্ষণ হিসেবে আমাদের শরীরে প্রকাশ পাই এবং আমাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতির অভাবে এটি হয়। তাই আমাদের রক্তস্বল্পতার মতো সমস্যা দেখা দিলে বেশি বেশি আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

আমার মতে রক্তস্বল্পতা একটি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা তাই রক্তস্বল্পতাকে আমাদের কখনো অবহেলা করা উচিত না। যেহেতু এটি কোনো রোগের লক্ষণ হিসেবে আমাদের শরীরের প্রকাশ পাই তাই আমাদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে যথাযথ রোগ নির্ণয় করতে হবে তা না হলে পরে আমাদের বড় কোনো সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি যাতে আমাদের রক্তশূন্যতা না হয় সেজন্য আমাদের সব সময় আয়রন এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ক্রিয়েটিভ ইনফো ৩৬০ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url