টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আপনি কি জানেন টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। টমেটো একটি খুবই জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর শীতকালীন সবজি। আমরা প্রায়ই বিভিন্ন খাবারের সাথে টমেটো সালাদ হিসাবে খেয়ে থাকি। টমেটো একটি শীতকালীন সবজি হলেও এখন প্রায় সারা বছরেরই পাওয়া যায়।

টমেটো-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা

টমেটো খাওয়ার নানা উপকারিতা রয়েছে এটি ত্বক ও চুলের যত্নে খুবই উপকারী পাশাপাশি পুষ্টি ও ভিটামিনের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস। এছাড়াও হার্টের স্বাস্থ্য, চোখের উন্নতি এবং ক্যান্সার প্রতিরোধী হিসেবে টমেটো খুবই কার্যকারী। এতে যেমন নানা পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে তেমনি নিয়ম না মেনে এবং অতিরিক্ত খেলে হতে পারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তাই চলুন জেনে নেই বিস্তারিত এই ব্যাপারে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় দিক থাকলেও এর উপকারিতার দিকই বেশি। টমেটো একটি খুবই জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি এবং এটি এখন প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। টমেটো খাওয়ার নানা উপকারিতা রয়েছে। নিয়মিত টমেটো খাওয়ার ফলে আমাদের ত্বক ও চুল সুন্দর হয়, হার্ট ও চোখের সমস্যা দূর হয় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, কে, এ, ফলেট এবং পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব ভিটামিন এছাড়াও এতে রয়েছে থায়ামিন নায়াসিন ভিটামিন বি৬ ম্যাগনেসিয়াম ফসফরাস এবং কপার।

টমেটোতে এ সকল গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকায় এটি আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। চর্ম রোগের জন্য এর কার্যকারিতা অনেক আমাদের যাদের ত্বকের সমস্যা আছে তারা যদি নিয়মিত টমেটোর রস মাখি তাহলে যেকোনো ত্বকের সমস্যা অনেকটাই নিরাময় হবে। এছাড়া টমেটো উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে সকালে খালি পেটে যদি একটি বা দুইটি টমেটো খাওয়া যায় তবে তা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মুখে সৌন্দর্য বৃদ্ধি, রক্তস্বল্পতা দূর, সর্দি কাশি প্রতিরোধ এবং মাড়ি থেকে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণেও টমেটো খুবই কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।

টমেটোর অনেক উপকারিতার দিক থাকলেও এর কিছু অপকারিতার দিকও রয়েছে এখন আলোচনা করা যাক টমেটো খাওয়ার কিছু অপকারিতা দিক। কোন কিছুই আমাদের অতিরিক্ত খাওয়া ভালো না তেমনি টমেটো অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন অতিরিক্ত টমেটো খাওয়ার ফলে টমেটোতে থাকা বিভিন্ন উপাদান আমাদের হজমের সমস্যা করতে পারে এবং কিডনি রোগের কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত  টমেটো খেলে পাকস্থলীতে অম্লের প্রবাহ বৃদ্ধি পায় তাই যারা পেটের পীড়ায় ভোগেন তাদের অতিরিক্ত টমেটো খাওয়া থেকে বিরোধ থাকা উচিত।

টমেটোতে হিস্টাসিন নামক এক ধরনের উপাদান থাকে ফলে অতিরিক্ত খেলে ত্বকে এলার্জি, মুখ জিহ্বা বা গলায় জ্বালাপোড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত টমেটো খাওয়ার ফলে কিডনিতে পাথর হতে পারে কারণ টমেটোতে থাকে ক্যালসিয়াম ও অক্সিলেট যা সহজেই শরীর থেকে বের হতে চায় না এবং শরীরে জমে যার ফলে কিডনিতে পাথর হতে পারে। টমেটোতে সোলানিন নামক এক ধরণের অ্যালকালয়েড থাকে যার ফলে অতিরিক্ত টমেটো খেলে গেঁটে বাত দেখা দিতে পারে। তাই আমাদের সকলের উচিত টমেটো অতিরিক্ত না খেয়ে পরিণত খাওয়া।

টমেটোতে যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে

টমেটোতে যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে তা আসলে বলে শেষ করা যাবে না। টমেটো পুষ্টিগণের আধার এতে রয়েছে ভিটামিন এ, কে, বি৬, পটাশিয়াম, থায়ামিন,নায়াসিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং কপার সহ আরও নানা উপাদান। টমেটো থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রায় চার রকমের ক্যারোটিনয়েড এরা আমাদের শরীরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া টমেটোতয়ে থাকা লাইকোপেন এবং ভিটামিন এ  অ্যাজমা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম আমাদের হাড় মজবুত করে।

টমেটো থাকা পুষ্টিগুণগুলো আমাদের শরীরের বিভিন্নভাবে কাজে লাগে ভিটামিন এ এবং ক্যারোটিনয়েড আমাদের শরীরের বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা দূর করে। যারা আমরা চর্ম রোগে ভুগছি তাদের জন্য টমেটোর রস খুবই উপকারী হতে পারে। ভিটামিন সি এর অভাবে অনেক সময় আমাদের মাড়ি থেকে রক্তপাত হয় কিন্তু টমেটোতে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি থাকায় মাড়ি থেকে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে টমেটো কার্যকরী ভূমিকা রাখে। টমেটো খাওয়ার ফলে সূর্যের ক্ষতি থেকে ত্বক রক্ষা পায় ফলে তোকে বলিরেখা পরার পরিমাণ কমে যায়। এছাড়া টমেটোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের উন্নতি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
এছাড়াও টমেটো থাকা ক্যালসিয়াম আমাদের হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। টমেটোতে আরও বেশ কিছু ভিটামিন থাকে যেমন বি১ বি৩ বি৭ যা আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পাশাপাশি থাকে আয়রন, ক্রোমিয়াম, কোলিন যা আমাদের স্ট্রেস হরমোন কমায় পাশাপাশি টমেটো খেলে রক্ত পরিষ্কার হয় হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। টমেটোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন কে এবং ক্যালসিয়াম থাকে গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ১০০ গ্রাম টমেটোতে প্রায় ১১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। আবার টমেটোতে থাকা পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় টমেটো অসংখ্য পুষ্টিগুণের আধার এতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন খনিজ পদার্থ এবং পুষ্টিকর উপাদান আমাদের শরীরে বিভিন্নভাবে কাজে লাগে। নিয়মিত টমেটো খাওয়ার ফলে আমাদের ত্বক, চুল, হার্ট এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। পাশাপাশি টমেটো ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে টমেটোতে থাকা লাইকোপিন ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে টমেটো খাওয়ার ফলে পাকস্থলী, ডিম্বাশয় এবং ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। তাই আমাদের সকলের নিয়মিত এবং পরিমিত টমেটো খাওয়া উচিত আর যাদের শারীরিক সমস্যা আছে তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তারপর টমেটো খাওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থায় টমেটো খাওয়ার উপকারিতা  

গর্ভাবস্থায় অনেকে টমেটো খেতে পছন্দ করে গর্ভাবস্থায় টমেটো খাওয়ার বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে।গর্ভাবস্থা প্রতিটি মায়ের জন্য একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ অবস্থা এ অবস্থায় কোন খাবারটি খাওয়া যাবে ও কোনটি খাওয়া যাবে না সে সম্পর্কে অবশ্যই সঠিক ধারণা থাকতে হবে। গর্ভাবস্থায় টমেটো খাওয়া যাবে কিনা এই নিয়ে অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে টমেটো একটি খুবই পুষ্টিকর সবজি এবং এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন খনিজ লবণ এবং পুষ্টিকর সকল উপাদান তাই গর্ব অবস্থায় এটি খেলে অবশ্যই মা এবং শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত এর উপকারিতা গুলো সম্পর্কে।

  • টমেটোতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পাশাপাশি লোহিত রক্ত কণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • এর থাকা ভিটামিন কে হাড় মজবুত করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
  • টমেটোতে থাকা ফলিক এসিড গর্ভাবস্থায় শিশুর নিউরাল টিউব ডিফেক্ট প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
  • টমেটোতে থাকা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানুষের ক্ষতি প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
  • গর্ভাবস্থায় টমেটো খেলে ফ্লু বা ঠান্ডা জনিত সমস্যা কম হয় এবং হজম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হুয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী গর্ভাবস্থায় প্রচুর ফল ও সবজি খেলে মা ও শিশুর উভয়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় যার ফলে টমেটো খাওয়া এক্ষেত্রে খুবই উপকারী। গর্ভাবস্থায় অনেক নারী আয়রনের ঘাটতির জন্য আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে থাকে টমেটো আয়রনের শোষণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে তাই গর্ভাবস্থায় টমেটো খাওয়ার ফলে শরীরে আয়রনের শোষণ বৃদ্ধি পায় এবং অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর চুল পড়ে যায় এবং ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয় টমেটো খেলে সে ধরনের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

সুতরাং আমরা বলতে পারি গর্ভাবস্থায় অবশ্যই টমেটো খাওয়া উপকারি তবে তা সবার জন্য নয়। অনেকের নানা ধরনের সমস্যা থাকতে পারে তাই অবশ্যই নিয়ম মেনে টমেটো খাওয়া উচিত। যাদের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা অথবা হজমে সমস্যা হয় তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টমেটো না খাওয়াই ভালো কারণ টমেটোতে থাকা অতিরিক্ত ম্যালিক ও সাইট্রিক এসিড এসিডিটির সমস্যা করতে পারে এছাড়া যাদের অ্যালার্জি সমস্যা রয়েছে তাদের অতিরিক্ত টমেটো খাওয়া উচিত নয়। তাই গর্ভাবস্থায় টমেটো খেলে নিয়ম মেনে এবং নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে তারপরে খাওয়া উচিত তা না হলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে

ত্বক ও চুলের যত্নে টমেটোর ভূমিকা

তক ও চুলের যত্নে টমেটোর রয়েছে নানা উপকারিতা। অনেকেই আমরা ত্বক ও চুলের যত্নে টমেটো ব্যবহার করে থাকি। অনেকে আমরা টমেটো পেস্ট করে চুলে লাগাই আবার কেউ কেউ ফেসপ্যাক হিসেবে মুখে ব্যবহার করি। টমেটো খুবই উপকারী এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি হিসেবে পরিচিত এতে থাকা নানা উপকারী উপাদান ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ আমাদের চুল ও ত্বক উভয়ের জন্য খুবই উপকারী।এতে রয়েছে ভিটামিন সি, কে, এ, ফলিক এসিড এবং পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব ভিটামিন এছাড়াও এতে রয়েছে থায়ামিন নায়াসিন ভিটামিন বি৬ ম্যাগনেসিয়াম ফসফরাস এবং কপার। যা আমাদের চুল এবং ত্বককে আরও সুন্দর করে তুলে।

আমাদের অনেকের আজকাল অল্প বয়সে চুল পড়ে যায় এবং মাথা টাক হয়ে যায়। চুল পড়ে যাওয়ার কয়েকটি প্রধান কারণ হলো পরিবেশ দূষণ নিম্নমানের শ্যাম্পু বা পণ্য ব্যবহার এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা।তাই চুলের ঝরে পড়া রোধ করতে এবং চুলকে আরও মজবুত করতে টমেটো একটি উপকারি সবজি টমেটোতে থাকা ভিটামিন সি, এ, বায়োটিন এবং জিংক চুলকে পর্যাপ্ত পুষ্টি দেয় এবং গোড়া থেকে মজবুত করে পাশাপাশি চুলকে করে আরও শক্তিশালী। টমেটো থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলকে ঘন করে এবং যেকোনো ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে।
টমেটো-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা-জানুন-বিস্তারিত-বিষয়
বিভিন্নভাবে টমেটো চুলে লাগানো যায় অনেকে টমেটোর পেস্ট করে তারপর সেই পেস্টকে চুলে লাগায় আবার অনেকে নারকেল তেলের সাথে বা অ্যালোভেরার সাথে টমেটোকে মিক্স করে সেই মিশ্রণ কে চুলে লাগায়। অ্যালোভেরার সাথে টমেটোর পেস্ট কে মিশিয়ে তারপর চুলে লাগিয়ে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর ধুয়ে ফেললে চুলের বৃদ্ধি বাড়ে এবং চুল পুষ্টিক হয়।

টমেটো যেমন চুলের জন্য উপকারী তেমনি ত্বকের জন্যেও রয়েছে অনেক উপকারিতা। যারা নানা চর্ম রোগে ভুগেন তাদের জন্য টমেটো হতে পারে খুবই উপকারি। টমেটোতে থাকা ভিটামিন এ এবং ক্যারোটিনয়েড তার জন্য খুবই উপকারি। মুখে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে অথবা বয়সের ছাপ লুকাতে টমেটোর কার্যকারিতা রয়েছে নিয়মিত টমেটো খেলে বয়সের ছাপ যেমন দূর হয় তেমনি মুখ হয় মসৃণএবং কোমল। অনেকে টমেটো ফেসপ্যাক হিসেবে মুখে ব্যবহার করে। তাই ত্বক এবং চুলের যত্নে আমাদের নিয়মিত টমেটো খাওয়া উচিত।

হার্টের ও চোখের উন্নতিতে টমেটোর উপকারিতা

হার্টের সমস্যা দূর করতে এবং চোখের উন্নতিতে টমেটোর রয়েছে খুবই কার্যকরী ভূমিকা। টমেটোতে লাইকোপিন নামক এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে এছাড়া টমেটোতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জন্য খুবই উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং পটাশিয়াম হার্ট ও চোখের জন্য উপকারী। যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে এবং রক্তস্বল্পতাই ভোগে তাদের জন্য টমেটো একটি উপকারী সবজি।

টমেটোতে সোডিয়ামের পরিমাণ অনেক কম থাকায় যাদের হাইপার টেনশনের মত সমস্যা আছে তাদের ব্লাড প্রেসার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এছাড়া টমেটোতে কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেক কম থাকায় এটি হার্টের জন্য ভালো এবং এটি কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ কে অনেকাংশেই প্রতিরোধ করে। যাদের এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেক বেশি তারা নিয়মিত টমেটো খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং হার্ট সুস্থ থাকবে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমবে।
আজকাল আমরা সবসময় কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকি এর ফলে আমদের অনেকের চোখে নানা সমস্যা দেখা দেয় এসব সমস্যার সমাধান করার জন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞরা আজকাল বিভিন্ন সতেজ শাকসবজি এবং ফলমূল খেতে বলে যাদের মধ্যে মধ্যে টমেটো একটি অন্যতম সবজি। টমেটো খেতে যেমন মজার তেমনি উপকারিতাও অনেক। কারণ টমেটোতে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিকর উপাদান এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পুষ্টিকর উপাদান হলো লিউটিন এবং জিয়াজ্যানথিন এই দুটি উপাদান চোখের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পাওয়া যায় তাই আমাদের নিয়মিত দেখা উচিত।

সুতরাং টমেটো যেমন হার্টের জন্য ভালো তেমনি চোখের উন্নতির জন্য খুবই উপকারী। এতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন উপাদান যেমন খারাপ কোলেস্টেরলে নিয়ন্ত্রণে রেখে পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক অংশে কমিয়ে ফেলে। এছাড়া যাদের হাইপার টেনশনের মত সমস্যা আছে তাদের নিয়মিত টমেটো খাওয়া উচিত। পাশাপাশি এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তস্বল্পতা দূর করে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ প্রতিরোধে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি চোখের উন্নতি করে যারা আমরা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকি তাদের জন্য নিয়মিত টমেটো খাওয়া আবশ্যক।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে টমেটো যেভাবে ভূমিকা রাখে

টমেটো ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে এতে থাকা বিভিন্ন ধরনের উপাদান ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং মিনারেল ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নিয়মিত কাঁচা টমেটো খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকে অনেক অংশে কমে আসে। এটি প্রধানত শীতকালীন সবজি হলেও এখন প্রায় সারা বছর পাওয়া যায়। আমরা অনেকেই সালাদ অথবা টমেটো সস হিসাবে খেয়ে থাকি কেউ কেউ আবার কাঁচা টমেটো খেয়ে থাকে টমেটো খাওয়ার নানা সুফলের মধ্যে একটি হলো এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

নিয়মিত টমেটো খাওয়ার ফলে পাকস্থলী ডিম্বাশয় অথবা ফুসফুসের মত ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি দিন দিন কমে যায়। টমেটোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আলফা লাইপেইক অ্যাসিড, লাইকোপেন, কোলিন বা বিটা ক্যারোটিন এবং লুটেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সকল উপাদান থাকায় এগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এ উপাদান গুলো ওজন কমাতে সাহায্য করে হার্টের স্বাস্থ্য উন্নতি করতে সাহায্য করে এবং পাশাপাশি ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে। নিয়মিত টমেটো খাওয়ার ফলে ক্যান্সার সেল তৈরি হতে পারে না এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়।

শুধু ক্যান্সার প্রতিরোধ নয় ক্যান্সার প্রতিরোধ করার পাশাপাশি টমেটো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে দৃষ্টি শক্তি উন্নত করে এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। টমেটো কিডনিকে ভালো রাখতে সাহায্য করে এটি ক্ষারীয় প্রকৃতির সবজি হাওয়ায় শরীরে অম্লের উৎপাদন বৃদ্ধি করে এবং ফসফেট, ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াকে প্রশমিত করে। একটি ক্যান্সার গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত প্রতিদিন সাতটির বেশি কাঁচা টমেটো খান তাদের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা প্রাইস ৬০% কমে যায়।

তাই আমাদের উচিত নিয়মিত বেশি বেশি কাঁচা টমেটো খাওয়া এর ফলে আমরা যেমন ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবো তেমনি শরীরে আরও নানা রকমের উপকারিতা ভোগ করতে পারবো। যারা নিয়মিত টমেটো খান তাদের কোলন, স্টমাক, রেক্টাল, ফুসফুস ইত্যাদি ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় অনেক অংশ কমে আসে। টমেটোতে নানা উপাদানের পাশাপাশি থাকে পিকোম্যারিক ও ক্লোরোনিক এসিড যা শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ১৯৮১ সালে দুইজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মনে করেন খাদ্যাভাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ ক্যান্সারে ঝুঁকি কামনো সম্ভব।

টমেটো খাওয়ার কিছু অপকারিতা

টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় দিকই রয়েছে। আমরা এতক্ষণ নানা উপকারিতার কথা জানলাম এখন আসা টমেটো খাওয়ার কিছু অপকারিতার দিক সম্পর্কে। যদি অপকারিতা গুলো মানুষ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। পৃথিবীতে সব জিনিসেরই যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি কিছু খারাপ দিকও রয়েছে। টমেটোও তার ব্যতিক্রম নয় এর নানা ভালো দিক এবং উপকারী দিক থাকলেও কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে তাই টমেটো খাওয়ার আগে আমাদের কিছু জিনিস জানার প্রয়োজন এবং সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

টমেটো একটি পুষ্টিকর এবং উপকারী সবজি হলেও আমাদের সকলের উচিত পরিমিত পরিমাণে টমেটো খাওয়া। অতিরিক্ত টমেটো খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে সে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো। পিসিত মতো খেলে হজমের সমস্যা এবং কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে যেমন অতিরিক্ত টমেটো খাওয়ার ফলে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তাদের হজমে সমস্যা হতে পারে কারণ টমেটোতে থাকা অতিরিক্ত ম্যালিক এবং সাইট্রিক এসিড পাকস্থলীতে অম্লের প্রবাহ সৃষ্টি করে। তাই যারা পেটের পীড়ায় ভোগেন তাদের টমেটো খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
টমেটো-খাওয়ার-কিছু-অপকারিতা
এছাড়াও যাদের এলার্জি সমস্যা আছে তাদের অতিরিক্ত টমেটো খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত কারণ টমেটো থাকা হিস্টামিন নামক এক ধরনের উপাদান এলার্জির কারণ হতে পারে। আবার অতিরিক্ত টমেটো খেলে কিডনিতে পাথর হয় কারণ টমেটোতে থাকে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম এবং অক্সালেট যার শরীরে জমে পাথর সৃষ্টি করতে পারে। আবার যাদের পা বা হাটুতে ব্যথা হয় তাদের অতিরিক্ত টমেটো খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত কারণ টমেটোতে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম থাকে এই অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের ফলে গেতে বাত হতে পারে।

টমেটোতে থাকা লাইকোপেন অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে জমা হলে লাইকোপিনোডার্মিয়া মতো সমস্যা দেখা দায় এবং রক্তে লাইকোপেনের পরিমাণ অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে গেলে নানা সমস্যা হতে পারে যেমন ত্বকের রং পাল্টে যাওয়া। সুতরাং টমেটো খাওয়ার অনেক উপকারিতা এবং লাভজনক দিক থাকলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে তাই আমাদের উচিত পরিমিত পরিমাণে টমেটো খাওয়া।

যাদের টমেটো খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত

যেকোন খাদ্য গ্রহণ করার পূর্বে আমাদের কিছু বিষয় লক্ষ্য রেখে তারপর খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। আমাদের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সকলের জন্য সকল খাদ্য গ্রহণ করা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে। তাই কারো জন্য কি রকম খাবার সমস্যার কারণ হতে পারে সেই জিনিসগুলো আগে নিজেদের বিবেচনা করতে হবে। টমেটো একটি উপকারী এবং স্বাস্থ্যকর সবজি। টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় দিকই রয়েছে মানুষের শারীরিক অবস্থা ভেদে সকলের জন্য এটি খাওয়া নিরাপদ নাও হতে পারে তাই যে কোন খাদ্য গ্রহণ করার পূর্বে অবশ্যই আমাদের ডাক্তারের পরামর্শ মেনে তারপর খাওয়া উচিত।

যাদের পেটে পীড়া আছে অথবা অতিরিক্ত এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আছে তাদের জন্য টমেটো না খাওয়ায় উত্তম কারণ টমেটো থাকা অতিরিক্ত ম্যালিক এসিড এবং সাইট্রিক এসিড পাকস্থলীতে অম্লের পরিমাণ বৃদ্ধি করে যার ফলে পাকস্থলী বেড়ে যায় এবং ফলস্বরূপ ব্যথা হতে পারে। আমার যারা গর্ভবতী আছে তাদের জন্য টমেটো উপকারী হলেও অবশ্য ডাক্তারের পরামর্শ মেনে তারপর গ্রহণ করা উচিত। যাদের অ্যালার্জি বা অতিরিক্ত হাড়ে ব্যথা আছে তাদের জন্য অতিরিক্ত টমেটো খাওয়া মোটেই ঠিক নয়।

অতিরিক্ত টমেটো খাওয়ার ফলে অনেক সময় ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। টমেটোকে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে যার নাম সালমোনেলা এই ব্যাকটেরিয়া ফলে অনেক সময় ডায়রিয়া হয়। এছাড়া অতিরিক্ত টমেটো খাওয়ার ফলে শরীরে লাইকোপেনোডার্মিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে এটিে এমন একটা অবস্থা যখন অতিরিক্ত লাইকোপেন শরীরে প্রবেশের ফলে ত্বকের রং পাল্টে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে দৈনিক ৭৫ মিলিগ্রামের বেশি লাইকোপেন শরীরে প্রবেশ করলে লাইকোপেনোডার্মিয়া হতে পারে।

সুতরাং যাদের কিডনিজনিত সমস্যা আছে গ্যাস্ট্রিক অথবা অ্যাসিডিটি সমস্যা আছে এছাড়াও যাদের হাড়ে সমস্যা, এলার্জি জনিত সমস্যা, জয়েন্টে ব্যথা বা হাড়ে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টমেটো না করাই ভালো। গর্ভাবস্থায় টমেটো খাওয়া অনেক উপকারী হলেওগর্ভাবস্থায় অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে যেকোন খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। মূলত তাদের উপরোক্ত সমস্যাগুলো আছে তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ না মেনে অতিরিক্ত টমেটো খাওয়া উচিত নয় এবং তাদের টমেটো খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

টমেটো খাওয়ার কিছু নিয়ম ও উপায়

আমরা বিভিন্নভাবে টমেটো পেয়ে থাকি। কেউ সালাদের সাথে টমেটো খায় আবার অনেকেই টমেটো রান্না করে খায়। টমেটোর জুস অথবা টমেটো সস হিসাবেও অনেকে আমরা খেয়ে থাকি। তবে প্রশ্ন হলো কিভাবে টমেটো খেলে আমরা বেশি পুষ্টি পাবো? মূলত যে কোন কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূলে অধিক মাত্রায় ভিটামিন এবং খনিজ লবণ থাকে। যা রান্না করা ফলে অনেক সময় কমে যায় তাই আমাদের রান্নার তুলনা কাঁচা শাকসবজি বা ফলমূল খাওয়া অধিক পুষ্টিকর হলেও টমেটোর ক্ষেত্রে রয়েছে কিছুটা ব্যতিক্রম।
টমেটো লাল হওয়ার পিছনে যে পিগমেন্টের ভূমিকা রয়েছে সে পিগমেন্টের নাম হলো লাইকোপেন। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং হৃদ রোগের ঝুঁকি কমায়। আমরা যখন টমেটো রান্না করি তখন এই লাইকোপেনের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে এক টুকরো কাঁচা টমেটোতে প্রায় ৫১৫ মাইক্রগ্রাম লাইকোপেন থাকে কিন্তু যখন টমেটো রান্না করা হয় তখন এই লাইকোপেনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই প্রায় দুই চা চামচ টমেটো সস এ ১৩৮০০ মাইক্রোগ্রাম লাইকোপেন থাকে। অর্থাৎ রান্না করে খেলে অধিক লাইকোপেন পাওয়া যায়।

তাই আমাদের কাঁচা টমেটো খাওয়ার পাশাপাশি চেষ্টা করতে হবে রান্নার করা টমেটো খাওয়ার অথবা টমেটো দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সস, সরুয়া ও রোস্ট বানিয়ে খেতে। এর ফলে আমরা অধিক লাইকোপেন পাবো যা আমাদের ক্যান্সার প্রতিরোধ করার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়াও আমরা সালাদ অথবা এমনি কাঁচা টমেটো খেতে পারি। এছাড়াও যারা আমরা ওজন কমাতে চাই তারা সকালে খালি পেটে টমেটো খেতে পারি।

শেষ কথাঃ টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

টমেটো খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় দিক থাকলেও এর উপকারিতার দিকই বেশি। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং মিনারেল আমাদের শরীররে অনেক পুষ্টি যোগায় পাশাপাশি রক্তশূন্যতা দূর করে উচ্চ রক্তচাপ দূর করে। ত্বক এবং মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে চুলকে মজবুত করে পাশাপাশি হার্ট এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। নিয়মিত টমেটো খেলে ক্যান্সারের মতো রোগ হওয়ার ঝুকি কমে।

টমেটো খাওয়ার অনেক উপকারিতা থাকলেও টমেটো খাওয়ার ফলে কিছু শারীরিক সমস্যা হতে পারে যেমন তাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে অথবা এলার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের অতিরিক্ত টমেটো না খাওয়ায় ভালো। যাদের হাড়ে ব্যথা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টমেটো না খাওয়াই ভালো কারণ টমেটোতে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম থাকলেও অনেক সময় এই ক্যালসিয়াম প্রদাহ সৃষ্টি করে। তাই তাদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাদের টমেটো খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তারপর খাওয়া উচিত।

আমার মতে টমেটো খাওয়ার উপকারিতার পাশাপাশি যেহেতু কিছু অপকারিতার দিকও রয়েছে সেজন্য আমাদের টমেটো খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। যেহেতু উপকারিতার পরিমাণ বেশি এবং সবার জন্য একটি ক্ষতিকর নয় সে কারণে যাদের কিছু শারীরিক সমস্যা আছে তারা যদি টমেটো খাওয়ার পূর্বে অল্প কিছু সতর্কতা মাথায় রাখে খায় তাহলে তারাও এর অপকারিতার দিক থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে পারবে। আমার মতে যাদের কোন বড় শারীরিক সমস্যা নেই তাদের নিয়মিত টমেটো খাওয়া উচিত। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ক্রিয়েটিভ ইনফো ৩৬০ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url