অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক
অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক শব্দটি শুনে অবাস্তব মনে
হলেও, বাস্তবে তা সম্ভব। আপনাদের ওয়েবসাইট ক্রিয়েটিভ ইনফো ৩৬০
এর আজকের আর্টিকেলে আমরা অফলাইনে ডাটা ব্যাকআপের উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক
জানাবো।
যেখানে শুধুমাত্র আপনার তথ্য নিরাপদ রাখার উপায় থাকবে না বরং ভবিষ্যতে হ্যাকিং না হয় সে বিষয়গুলো এখানে তুলে ধরা হবে। সুতরাং এই আর্টিকেলে আপনার ডাটা ব্যাকআপ এবং নিরাপত্তার বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা হবে।
পেজ সূচিপত্রঃ অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক সম্পর্কে আলোচনা
- অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক
- অফলাইন ও অনলাইন ব্যাকআপ এর পার্থক্য
- ডাটা সিকিউরিটির মূল ঝুঁকি গুলো
- নিরাপদ ব্যাকআপ ড্রাইভ নির্বাচন পদ্ধতি
- ডাটা এনক্রিপশন ও পাসওয়ার্ড প্রটেকশন কৌশল
- ফিজিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইসের নিরাপত্তা টিপস
- ব্যাকআপ ভেরিফিকেশন ও রিকোভারি প্রক্রিয়া
- নিয়মিত ব্যাকআপ সিডিউল ও মনিটরিং সিস্টেম
- অফলাইন ব্যাকআপের ভবিষ্যৎ ও উন্নত নিরাপত্তা প্রবণতা
- শেষ কথাঃ অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক
অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক
অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক জেনে ডাটার স্টোরেজ নিরাপদ
রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনার ডাটা যদি ব্যাকআপ না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে
সেটা হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেজন্য আমাদেরকে জানতে হবে ডাটা ব্যাকআপ
দেওয়ার নিয়ম, হতে পারে সেটা অফলাইন কিংবা অনলাইন। অফলাইনে ব্যাকআপ দেওয়ার
উপকারিতা হলো ইন্টারনেট ছাড়াই আপনি ব্যাকআপ দিতে পারবেন। এতে আপনার ব্যক্তিগত
তথ্য এবং গোপনীয় কিছু মেসেজ আপনি সহজেই ডাটাটা সংগ্রহ করতে পারবেন। তাই নিচে
অফলাইন ডাটা ব্যাকআপের উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক এর নিয়মগুলো শুধু যথাযথভাবে
অনুসরণ করলেই অফলাইনে ডাটা ব্যাকআপ খুব সহজেই করা যাবে।
১.কম্পিউটারে অফলাইনে ডাটা ব্যাকআপের জন্য কম্পিউটারের সাথে একটি হার্ড ড্রাইভ
বা পেনড্রাইভ সংযুক্ত করতে হবে। Start মেনুতে থাকা Backup লিখে সার্চ দিয়ে
Windows backup সিলেক্ট করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট ফোল্ডারে যে সেটি সিলেক্ট
করতে হবে এবং সেটিং অপশনে গিয়ে backup on অপশনটি on করে দিতে হবে। এবার
কম্পিউটারে অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ হওয়া শুরু হয়ে যাবে।
২. মোবাইল ফোনে অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ এর জন্য মোবাইল ফোনে OTG ব্যবহার করে একটি
পেনড্রাইভ যুক্ত করতে হবে। এবার ফোনে ফাইল file manager এ গিয়ে যেসব ফাইল
ব্যাকআপ করব সেগুলো সিলেক্ট করতে হবে। এরপর Google> Backup এ গিয়ে backup
now অপসনে ক্লিক করলেই হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে দেখা যাবে সমস্ত ডেটা Google এর
ক্লাউডে ডাটা গুলো ব্যাকআপ হয়ে গেছে।
অফলাইন ও অনলাইন ব্যাকআপ এর পার্থক্য
ডাটা ব্যাকআপ দুইভাবে দেওয়া যায়, একটা হলো অনলাইন ব্যাকআপ আরেকটা হলো অফলাইন
ব্যাকআপ। তবে এই দুই ভাবে ব্যাকআপ দেওয়ার মধ্যে কিছু সুযোগ সুবিধা আছে আবার
কিছু অসুবিধা আছে। আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে এখন তুলে ধরব, যে আসলে ডাটা ব্যাকআপটা
যেভাবে দিলে ভালো হয়। প্রথমত অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি
টেকনিক আয়ত্ত করে ডাটা ব্যাকআপ দিলে সেটা জমা হয় হার্ড ড্রাইভ, পেনড্রাইভ এবং
এক্সটার্নাল স্টোরেজে। কিন্তু সেটা যদি আবার অনলাইন ব্যাকআপ দেওয়া যায় তাহলে
ডাটা টা জমা হবে ক্লাউড সার্ভারে অর্থাৎ সেটা হতে পারে গুগল ড্রাইভ কিংবা
ড্রপবক্স। মূলত এই দুইটা অনলাইনে একটা স্টোরেজ।
এখন অফলাইনে যদি ব্যাকআপ দেওয়া যায় তাহলে ইন্টারনেট ছাড়াই সেটা ব্যাকআপ দেওয়া
যাবে এবং রিস্টোর করা যাবে। আর অনলাইনে ব্যাকআপ দিলে প্রবেশ করা যাবে না। এই
দিক দিয়ে অফলাইনে হ্যাকিং এর সম্ভাবনা কম থাকে, কিন্তু অন্যদিকে সার্ভার যদি
হ্যাক হয়ে যায় তাহলে ডাটা হ্যাকিং হতে পারে। তবে অনলাইনে এনক্রিপশন এর সুবিধা
আছে, যেটা আবার অফলাইনে নাই। মূলত এই দিকগুলো বিবেচনা করলে আমি বলব অফলাইনে
ব্যাকআপ দেওয়াটা ভালো। তবে যদি নিজের কোন ব্যক্তিগত ডাটা থাকে তাহলে সেটা
সংরক্ষণের জন্য অফলাইনে যথেষ্ট। আর ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্য কোন কাজ করার
জন্য অনলাইনই বিশ্বাসযোগ্য।
ডাটা সিকিউরিটির মূল ঝুঁকি গুলো
একজন মানুষের নিজস্ব তথ্য এবং ডাটা তাদের মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে স্টোরেজ
করে রাখে। এসব ডাটাগুলোর মধ্যে অনেকের আছে পার্সোনাল ডকুমেন্ট ও প্রয়োজনীয়
তথ্য। এইসব তথ্য চুরি হয়ে যায় যদি সঠিক সিকিউরিটি না দেওয়া থাকে। এর মধ্যে
অনেক মানুষ এরকম আছে যারা এসব বিষয়ে সচেতন হয় না। মনে করে নিজস্ব ডাটা কিংবা
ডকুমেন্ট চুরি হওয়া অসম্ভব। কিন্তু আসলে সেটা একদমই ভুল ধারণা। বর্তমানে
তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নের কারণে বিভিন্ন রকমের সিকিউরিটি এসেছে, তবে সেই সাথে
হ্যাকারদের অভিজ্ঞতা এক ধাপ এগিয়ে গেছে। কিছু কিছু যদি থাকে ডাটা সিকিউরিটির
জন্য, সেগুলো নিয়ে এখন আমি কথা বলব। যদি ডিভাইসে বিভিন্ন রকমের ভাইরাস কিংবা
ম্যালওয়ার হয়ে যায়, তখন সেটা হোক মোবাইল কিংবা কম্পিউটার ডাটা গুলো সংরক্ষণ
করা কঠিন হয়ে যায়। এমন হয়ে গেছে ডাটা গুলো নষ্ট হয়ে যায় কিংবা বিকৃত হয়ে যায়।
তবে ডাটা সিকিউরিটির সব থেকে বড় ঝুঁকি হলো হ্যাকিং। হ্যাকারা বিভিন্ন ফাঁদ
তৈরি করে আপনার ডিভাইসের সিস্টেমে প্রবেশ করে এবং আপনার তথ্য চুরি করতে পারে।
আবার অনেক সময় দেখা গেছে ডাটা লিক হয়ে যায়, অনুমতি ছাড়া যখন কেউ এক্সেস করে
তখন গোপন কিছু তথ্য চুরি হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে শক্তিশালী সিকিওর করা উচিত
নিজের ডিভাইসকে। এগুলো তো আসলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হলে এরকম হয়, তবে
অনেক ক্ষেত্রে আপনার ডিভাইস হারিয়ে গেলে কিংবা চুরি হয়ে গেলে ডাটার ঝুঁকি
থাকে। দেখা যাচ্ছে আপনার মোবাইল কিংবা ল্যাপটপের এক্সটার্নাল র্যাম একজন
প্রফেশনালকে দিয়ে লক খুলে তথ্য চুরি করে ফেলে। সেজন্য আমাদের ডাটা সিকিউর
করার জন্য অনেক শক্তিশালী সিকিউরিটি সেট করা উচিত। তাতে আমাদের ডাটা নিরাপদ
থাকবে, এমনকি চুরি হয়ে গেলেও সেটা কেউ অ্যাক্সেস করতে পারবে না।
নিরাপদ ব্যাকআপ ড্রাইভ নির্বাচন পদ্ধতি
ব্যাকআপ ড্রাইভ মূলত এমন একটি যন্ত্র বুঝাই, যেটি আসলে মানুষের নিজস্ব ছবি,
ভিডিও, প্রজেক্ট ও ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ কোন ডাটা একত্রে রাখা হয় সংরক্ষণ
করে। এই ব্যাকআপ ড্রাইভ আসলে বিভিন্ন রকমের হয়, একেক ডিভাইসের এক এক রকম।
কম্পিউটারের ক্ষেত্রে সেটা হয় এসএসডি কিংবা হার্ডডিক্স, মোবাইলের ক্ষেত্রে
সেটা হয়ে যায় পেনড্রাইভ। এই ব্যাকআপ ড্রাইভ সংরক্ষণ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ,
কারণ এতে মানুষ তার নিজের গুরুত্বপূর্ণ ডাটা মজুদ রাখে। এখন কিভাবে করে
নির্বাচন করবেন সে বিষয়ে আলোচনা করব। আপনাকে আগে ভালো ও নির্ভরযোগ্য ড্রাইভ
ব্যবহার করতে হবে। যেসব ড্রাইভে বিভিন্ন রকমের নিরাপত্তার সুযোগ আছে, যেমন
এনক্রিপশন সুবিধা আছে কিনা সেটা ভালো মতো করে চেক করতে হবে।
অনেক অনেক ড্রাইভ আছে যাদের এনক্রিপশন বিল্ট ইন করা থাকে না। এতে করে ডাটা
নিরাপদ রাখা যায় না। আবার কিছু ক্ষেত্রে চেক করতে হবে যে ডাটা ট্রান্সফার
স্পিড টা কি রকম। ডাটা ট্রান্সফার স্পিড যদি ভালো থাকে, তাহলে নিঃসন্দেহে
সেটা ভালো ড্রাইভ। তবে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, যখন নিরাপদ ব্যাকআপ
ড্রাইভ নির্বাচন করবেন তখন অবশ্যই স্টোরেজ ক্যাপাসিটি দেখে নির্বাচন করবেন। এ
সকল দিক বিবেচনা করলে আপনার ডাটা নিরাপদ থাকবে। কারণ উপরের উল্লেখিত তথ্যগুলো
মেনে যদি কোন ব্যাকআপ ড্রাইভ সংগ্রহ করেন তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে নিরাপদ।
ডাটা এনক্রিপশন ও পাসওয়ার্ড প্রটেকশন কৌশল
ডাটা নিরাপদ রাখার জন্য অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক
এর মাধ্যমে ডাটা প্রটেকশন করতে সেটার এনক্রিপশন ও পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করা
উচিত। পাসওয়ার্ড যত সহজ হবে, সেটা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা খুব কম হবে। সেজন্য
আমাদের অবশ্যই পাসওয়ার্ড ৮ থেকে ১২ অক্ষরের ব্যবহার করতে হবে। শুধুমাত্র
অক্ষর না, সেখানে সাংকেতিক চিহ্ন সহ সংখ্যাও দিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে।
এতে আপনার নিজস্ব ডাটা নিরাপদ থাকে। যেমন পাসওয়ার্ড হবে এরকম
"jinanjubery@2026", এইভাবে পাসওয়ার্ডটা শক্তিশালী হয়। তবে এই পাসওয়ার্ড একই
রাখবেন না প্রতিটি সাইটে। একের অধিক সাইট হলে, সেখানে আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড
তৈরি করবেন।
তবে এই সকল পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা থেকে বাঁচতে চাইলে বিভিন্ন পাসওয়ার্ড
ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন। যেমন Bitwarden, 1Password ইত্যাদি। অনেক সময়
দেখা গেছে পাসওয়ার্ড চুরি হয়ে গেছে, সেজন্য আপনি চাইলে টু ফ্যাক্টর
অথেন্টিকেশন অপশনটি চালু করতে পারেন। এতে কেউ চাইলেও আপনার অ্যাকাউন্ট কিংবা
সাইটে প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ এই টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন যে ডিভাইসে
একটিভ থাকবে, সেখানে অবশ্যই কোড যাবে। এভাবে করে আপনি আপনার নিজের গোপনীয়
ডাটা এনক্রিপশন ও পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করে তৈরি করতে পারবেন। তাহলে ডাটা চুরি
হওয়া থেকে কিংবা হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকা যাবে।
ফিজিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইসের নিরাপত্তা টিপস
অনেক সময় ডিভাইস চুরি হয়ে যায় কিংবা কেউ চুরি করে সেটাতে এক্সেস করে, সে
ক্ষেত্রে আপনার করনীয় যা যা করতে হবে সে বিষয় নিয়ে এখন আমি আলোচনা করব।
প্রথমত আপনাকে এনক্রিপশন ব্যবহার করতে হবে, এর মাধ্যমে আপনার ডাটা নিরাপদ
থাকবে। যদি কেউ ফিজিক্যাল ভাবে আপনার ডিভাইস দিয়েও যায় তবুও আপনার ডাটা গুলো
পড়তে পারবে না আবার ট্রান্সফার করতে পারবেনা। এবার আপনি নিরাপত্তার জন্য আর
একটা কাজও করতে পারেন সেটা হলে আপনার গুরুত্বপূর্ণ যদি কোন হার্ড ড্রাইভ
ব্যবহার করে থাকেন, সেটাকে অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করার পরে ডেস্কটপ কিংবা
ল্যাপটপের পাশে ফেলে রাখবেন না। কাজ শেষ হয়ে গেলে সেটা আলমারি কিংবা নিরাপদ
কোন জায়গায় রাখবেন।
তবে আমি বলবো এই সকল ডাটা যদি আপনি ভালো মতো সংরক্ষণ করতে চান, তাহলে
শুধুমাত্র একটি হার্ড ড্রাইভে ব্যাকআপ রাখবেন না। যদি সম্ভব হয় সেটা কোন
ক্লাউড একাউন্টেও রাখতে পারেন। এতে আপনার ডাটা হারিয়ে গেলেও পরে সেটা ফিরে
পাওয়া যায় ব্যাকআপের মাধ্যমে। আরেকটা বিষয় আমি খেয়াল করে দেখেছি, আপনি যদি
কোন ডাটা ব্যাকআপ করে রাখেন অনলাইনে এবং তাতে যদি ভাইরাস কিংবা ম্যালওয়ার
তৈরি হয়। তাহলে আপনার ডাটা টা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেজন্য আপনাকে প্রতিনিয়ত
ডিভাইসের অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে রাখতে হবে। যতটুকু পারা যায় প্রতিনিয়ত স্ক্যান
করতে হবে। তাহলে আপনার ড্রাইভের সাথে সাথে আপনার ডাটাটাও নিরাপদ থাকবে।
এইভাবে করে আপনি ফিজিক্যাল স্টোরেজ অর্থাৎ হার্ড ড্রাইভ নিরাপদ থাকবে ভাইরাস
থেকে।
ব্যাকআপ ভেরিফিকেশন ও রিকোভারি প্রক্রিয়া
ব্যাকআপ ভেরিফিকেশন এবং রিকোভারি বলতে বুঝায় যখন কোন ডাটা আপনি ব্যাকআপ রাখবেন
তখন সেটা নিরাপদ আছে কিনা, ডাটাটার মধ্যে কোন ভাইরাস আছে কিনা সেটা নিশ্চিত
করাকে ব্যাকআপ ভেরিফিকেশন বলে। আর রিকভারি বলতে সে ডাটা হারিয়ে গেলে আবার পরে
সেটা ফিরে পাওয়াটাকে রিকভারি বুঝায়। এই ব্যাকআপ ভেরিফিকেশন ও রিকোভারি
প্রক্রিয়া যেভাবে হয় সেটা নিয়ে এখন আমাদের মূল বিষয়। ব্যাকআপ ভেরিফিকেশনের
প্রথমেই যে কাজটা বেশি করতে হবে সেটা হলো যদি পারা যায় তাহলে ফাইলগুলো ব্যাকআপ
থেকে আবার রিস্টোর করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ কবুতরের মাংসের উপকারিতা ও অপকারিতা
ব্যাকআপটা অটোমেটেড মনিটরিং করার সিস্টেম অন করে দিলে, পরে ডিভাইস থেকে ডাটা
গুলো অটোমেটিক ব্যাকআপ নিবে সে জন্য কিছু কিছু অটোম্যাটেড সিস্টেম ব্যবহার করা
যায় যেমন Veeam, Acronis। এগুলো দিয়ে খুব সহজে আপনার ডাটা অটোমেটেড ব্যাকআপ করা
সম্ভব হয়। এই নিয়ম ও প্রসেসগুলো অনুসরণ করে চললে ব্যাকআপ ভেরিফিকেশন ও রিকোভারি
প্রক্রিয়াটা খুব সুন্দর হবে সম্পূর্ণ করা যাবে।
নিয়মিত ব্যাকআপ সিডিউল ও মনিটরিং সিস্টেম
আপনি যদি চান যে আপনার অ্যাপস কিংবা সফটওয়্যার এর ব্যাকআপ নিয়মমতো হয়, তাহলে
আপনাকে ব্যাকআপ সিডিউল তৈরি করতে হবে। যেমন বলা যায় নিয়ম করে সময়সূচি তৈরি
করে নিতে হবে। ডিভাইস কিংবা সফটওয়্যার ব্যাকআপ দিতে হলে সেটা আপনি মাসিক
ভিত্তিক কিংবা সাপ্তাহিক এবং প্রতি দিনও করতে পারবেন। আবার কিছু কিছু
ক্ষেত্রে যদি আপনি মনে করেন এই ব্যাকআপ গুলো আপনা আপনি ভাবে হবে, তবে আপনাকে
সেজন্য অটোমেটেড ব্যাকআপ টুলস গুলো ব্যবহার করতে হবে। এই টুলস গুলো দিয়ে আপনি
আপনার ব্যাকআপ অটোমেটিক দিতে পারবেন। তবে আমি একটা বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলবো
যে, যখন ব্যাকআপ দিবেন তখন অবশ্যই ব্যাকআপ লগ চেক করবেন।
ব্যাকআপ লগে আপনার আগের সকল ব্যাকআপ এর হিস্ট্রি দেওয়া থাকে। সেখান থেকে
বুঝতে পারবেন যে কবে এবং কখন ব্যাকআপ দেওয়া হয়েছিল। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
হলো যদি ব্যাকআপ ঠিকমতো না নেয় তাহলে আপনার কাছে অ্যালার্ট নোটিফিকেশন আসে সে
সে ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন আপনি চাইলে মেইলের মাধ্যমে মেসেজ আসবে কিংবা
নোটিফিকেশন আসবে। সেখানে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ব্যাকআপ হয়েছে কিনা। আপনি
যদি নিয়ম করে ব্যাকআপের সিডিউল তৈরি করেন, তাহলে প্রতিবারের মতোই ব্যাকআপের
পরে চেক করে নিবেন যে ব্যাকআপ নিয়মিত ভাবে হচ্ছে কিনা। এভাবে করে আপনি নিয়মিত
ভাবে আপনার অ্যাপস কিংবা সফটওয়্যার এর শিডিউল ব্যাকআপ দিতে পারবেন এবং সেটাও
ভালোমতো মনিটরিং করতে পারবেন।
অফলাইন ব্যাকআপের ভবিষ্যৎ ও উন্নত নিরাপত্তা প্রবণতা
অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক জেনে ডাটা ব্যাকআপ দেওয়াটা
এখনকার সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াইছে। কারণ এখন হ্যাকিং এর সমস্যা
অনেক গুণ বেড়েছে, সেই সাথে আপনার ডাটা গুলো চুরি হয়ে যায় খুব সহজে। সেজন্য এখন
অফলাইনে ব্রেকআপের সুযোগ এসেছে, যেখানে কোন ভাইরাসের সমস্যা থাকে না ওর কোন
হ্যাকিং এর সমস্যা থাকে না।
আরও পড়ুনঃ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসলে করণীয় কি
তবে এনক্রিপশন অবশ্যই অন করে রাখতে হবে, কারণ একমাত্র এটাই আপনার ডাটা কে
নিরাপদ রাখে। আপনাকে আপনার ডাটা একবারে কঠোরভাবে সিকিওর রাখতে হলে অবশ্যই
ফিজিক্যাল সিকিউরিটি উন্নত করতে হবে। যেমন বায়োমেট্রিক লক রাখবেন এবং ড্রাইভে
অ্যাপ লকার ব্যবহার করবেন। তাতে আপনার ডাটা গুলো নিরাপদ থাকে। এভাবে করে আপনি
অফলাইনের ব্যাকআপের মাধ্যমে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে সেটা
রিস্টোর করতে পারবেন।
শেষ কথাঃ অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক
অফলাইন ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার উন্নত সিকিউরিটি টেকনিক কিভাবে কাজ করে এবং এই
ব্যাকআপ সিকিউরিটির উপকারিতা বিষয়গুলো নিয়ে আমি আপনাদেরকে বাস্তবিক তথ্য
দিয়েছি। যেগুলো জেনে বুঝে কাজ করলে আপনার পার্সোনাল ডাটা গুলো হ্যাক হওয়া
থেকে এবং নষ্ট হওয়া থেকে নিরাপদ রাখে। অফলাইন ব্যাকআপের যে উন্নত সিকিউরিটি
আছে, ভবিষ্যতে সেগুলো আরো ফিচার যুক্ত করে একটা প্রিমিয়াম ভার্সনে নিয়ে আসবে
প্রযুক্তি। তখন আপনার ডাটা কেউ হ্যাক করতে পারবে না অথবা কেউ চাইলে এক্সেস
করতে পারবেনা। তাই প্রত্যেকের অফলাইনে ডাটা ব্যাকআপ রাখা জরুরী।
আমার মতে অফলাইনে ডাটা ব্যাকআপ নেওয়ার সিকিউরিটি টেকনিক জানা অনেক
গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনার ডাটা যদি ব্যাকআপ না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেটা হ্যাক
হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেজন্য আমাদের সকলকে জানতে হবে ডাটা ব্যাকআপ দেওয়ার
নিয়ম, হতে পারে সেটা অফলাইন কিংবা অনলাইন। অফলাইনে ব্যাকআপ দেওয়ার উপকারিতা হলো
ইন্টারনেট ছাড়াই আপনি ব্যাকআপ দিতে পারবেন। এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য এবং
গোপনীয় কিছু মেসেজ আপনি সহজেই ডাটাটা সংগ্রহ করতে পারবেন।



ক্রিয়েটিভ ইনফো ৩৬০ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url