শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

 শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় দিকই রয়েছে। শসা একটি জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর সবজি যা সারা বছরই পাওয়া যায়।গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা এবং ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এতে রয়েছে পানি, ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রচুর পরিমাণে ফাইবার।

শসা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা
তবে উপকারিতার দিক থাকেলও অনেকেই আমরা জানি না অতিরিক্ত শসা খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে বেশ কিছু জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আজ আমরা শসা খাওয়ার কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

পোস্ট সূচিপত্রঃ শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 

শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে আমরা এখন আলোচনা করব। মূলত শসা একটি পুষ্টিকর সবজি যা প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে শসা দারুণ কার্যকর। শসাতে প্রায় ৯৫% পানি থাকে পাশাপাশি এতে থাকে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার সহ প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। শসা খাওয়ার নানান উপকারিতা রয়েছে যেমন প্রথমত অত্যাধিক গরমে আমাদের শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে  যে পানি বের হয়ে যায় শসা শরীরের সেই পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে পাশাপাশি গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমায়।

দ্বিতীয়ত  শসা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এতে ক্যালরি কম থাকায় এটি ডায়েটের জন্য আদর্শ খাবার। আবার শসায় থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং পেট ভরা রাখে ফলে আমাদের অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। তৃতীয়ত শসাতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত শসা খেলে যেমন রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় তেমনি হার্টও সুস্থ রাখে। এছাড়া শসা প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যাল দূর করে যার ফলে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং বার্ধক্যের ছাপ কমে আসে। চোখের নিচে কালো দাগ বা ফোলাভাব দূর করতেও শসশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শসার অনেকভাবে উপকারী হলেও অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীরের জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত শসা খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শসায় থাকা কুকুরবিটাসিন নামের একটি উপাদান থাকে যা বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে বমি বা পেটে ব্যথা হতে পারে। যাদের কিডনির সমস্যা বা শরীরে পানি জমার প্রবণতা আছে তাদের অতিরিক্ত শসা না খাওয়াই ভালো কারণ শসাতে পানি ও পটাশিয়াম বেশি থাকে। এছাড়া কীটনাশক যুক্ত বা অপরিষ্কার শসা খেলে নানা শারীরিক অসুস্থতা হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

সুতরাং পরিমিত পরিমাণে শসা খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি শরীর ঠান্ডা রাখে, হজমে সহায়তা করে, ত্বক ও চুলের জন্য উপকারি এবং হার্ট ভালো রাখতে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে হতে পারে নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকি। আমরা যদি প্রতিদিন একটি বা দুইটি শসা খায় তাহলেই আমরা পাবো প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ জীবন।

শসাতে যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে

শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় দিক থাকলেও উপকারিতা আর পরিমাণই বেশি। শসা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর সবজি যা গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি নানা উপকারে আসে। প্রায় ৯৫% পানি নিয়ে গঠিত এই সবজি শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, হার্ট ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ত্বক ও চুলের যত্নেও রয়েছে এর নানা উপকার। সুতরাং শসা তে কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে চলুন জেনে নি

শসা ভিটামিন ও খনিজের একটি ভালো উৎস। শসায় রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ, এবং কিছু পরিমাণে ভিটামিন বি গ্রুপের উপাদান যেমন বি১, বি৫, বি৭ ইত্যাদি। ভিটামিন সি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে ও হাড় মজবুত রাখে। এছাড়া শসায় রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান যা আমাদের হৃদযন্ত্রের কাজ স্বাভাবিক রাখতে এবং শরীরে শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা আমাদের হার্ট কেও সুস্থ রাখে।

এছাড়া শসা পানি ও ফাইবারে ভরপুর। শসার সবচেয়ে বড় পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি হলো এতে থাকা উচ্চ পানি ও ফাইবারের পরিমাণ। প্রায় ৯৫% পানি থাকার কারণে এটি আমাদের শরীর ঠান্ডা রাখে এবং পানিশূন্যতা রোধ করে। আর এতে থাকা দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার হজমে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্র পরিষ্কার করে। যাদের গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায় বা শরীর শুকিয়ে যায় তাদের জন্য শসা প্রাকৃতিক হাইড্রেটর হিসেবে কাজ করে।
আবার শসায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদান থাকে যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড, ট্যানিন, লুটেইন, বিটা-ক্যারোটিন ও কুকুরবিটাসিন। এই উপাদানগুলো আমাদের শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যাল দূর করে, কোষের ক্ষতি রোধ করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বার্ধক্য কমিয়ে উজ্জ্বলতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

আমরা যারা কমাতে চাই তাদের জন্য শসা খুবই উপকারী। শসায় ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম থাকে প্রতি ১০০ গ্রাম শসায় কেবল প্রায় ১৬ গ্রাম ক্যালরি থাকে। শসাতে ফ্যাট বা কোলেস্টেরলের প্রায় নেই বললেই চলে ফলে এটি ওজন কমানোর জন্য আদর্শ খাবার। শসা খেলে পেট ভরা থাকে ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছা হয় না আবার ক্যালরি গ্রহণের সম্ভাবনাও কমে যায়। তাই যারা আমরা ওজন কমাতে চাই তাদের ডায়েট প্ল্যানে অবশ্যই শসা সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

শরীর ঠান্ডা ও পানিশূন্যতা রোধ করতে শসার ভূমিকা

গরমের দিনে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং ঘামের মাধ্যমে পানি বেরিয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। এর ফলে অনেক সময় আমাদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়,  ক্লান্তি আসে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এই অবস্থায় আমাদের শরীরে পানির চাহিদা মেটাতে এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে শসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য কাজ করে। 

শসা প্রাকৃতিকভাবে আমাদের শরীরকে শীতল রাখে। কারণ শসাতে মূলত ৯৫% থাকে পানি যা আমাদের শরীরের ভেতরে প্রাকৃতিক শীতলতা বজায় রাখে। শসা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গরমের দিনে একবাটি শসা বা এক গ্লাস শসার রস খেলে শরীরের ভেতরে তাত্ক্ষণিক ঠান্ডা অনুভূতি পাওয়া যায়।শসার এই শীতল প্রভাব শুধু শরীরের ভেতরে নয়, ত্বকের উপরেও প্রভাব ফেলে। সূর্যের তাপে অনেক সময় আমাদের ত্বক পুড়ে গেডে শসার রস লাগালে তা আরাম দেয় এবং ত্বকের জ্বালা কমিয়ে আনে। এ কারণেই অনেক বিউটি প্রোডাক্টে শসার রস ব্যবহার করা হয়।

 আমাদের শরীরের পানিশূন্যতা রোধে শসার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন এমন একটি সমস্যা যা শরীরে লবণ ও পানির ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এতে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। শসাতে থাকা বিভিন্ন উপাদানের কারণে শরীরে দ্রুত পানি সরবরাহ হয় এবং ইলেক্ট্রোলাইট পূরণ হয়। শুধু পানি নয় শসায় রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব উপাদান সব উপাদান যা আমাদের শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকারী। তাই গরমের সময় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বের হয়ে গেলেও শসা খেলে দ্রুত পানিশূন্যতা রোধ হবে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকবে। পাশাপাশি শরীর হবে আরও সতেজ।

শসার রস বা ডিটক্স পানির অনেক উপকারিতা রয়েছে। শসা শুধু কেটে খাওয়া নয় বরং রস বা ডিটক্স পানি খাওয়ার মাধ্যমেও শরীরকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখে। শসার রসের সঙ্গে পুদিনা পাতা ও লেবু মিশিয়ে পান করলে শরীরে ঠান্ডাভাব আসার পাশাপাশি হজম ভালো হয় এবং তৃষ্ণাও নিবারণ হয়। ডিটক্স পানিতে শসা একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, ফলে শরীর হালকা ও তরতাজা লাগে। যারা নিয়মিত শসার ডিটক্স পানি পান করেন, তারা গরমেও কম ক্লান্তি অনুভব করে এবং তাদের ত্বক উজ্জল হওয়ার পাশাপাশি থাকে আর্দ্র ও সতেজ।

এছাড়া শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শসা গরমের কারণে হওয়া মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং চোখের জ্বালাপোড়া কমায়। চোখের ওপর শসার টুকরো রাখলে তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়। এছাড়া শসা শরীরের অভ্যন্তরীণ টক্সিন দূর করে লিভার সহ অন্যান্য অঙ্গগুলোকে সতেজ সুস্থ এবং ভালো রাখে ফলে আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।

ওজন কমাতে শসা খাওয়ার নিয়ম

শসা হলো এমন একটি খাবার যা খুব কম ক্যালরিযুক্ত কিন্তু পুষ্টিগুণে ভরপুর। যারা  ওজন কমাতে চাই তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাবার কারণ এতে পানি এবং যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার থাকে যা হজমে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এছাড়া এতে ফ্যাট, চিনি বা কোলেস্টেরল প্রায় নেই বললেই চলে তাই শসা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শসা শরীরের অতিরিক্ত পানি ও টক্সিন বের করে দিয়ে মেটাবলিজমকে সক্রিয় রাখে। এটি কম ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় বেশি পরিমাণে খাওয়া গেলেও ওজন বাড়ে না। শসায় থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং পেটে গ্যাসের সমস্যা, পেট ফাঁপা , পেট ফুলে যাওয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এছাড়া শসা শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং অতিরিক্ত ক্ষুধা বা খাবারের প্রতি লোভ কমিয়ে দেয়। ফলে ওজন ও নিয়ন্ত্রণে থাকে
শসা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা-জানুন-সকল-বিষয়-বিস্তারিত
ওজন কমাতে শসা খাওয়ার সঠিক নিয়ম মেনে খাওয়া উচিত প্রথমত সকালে খালি পেটে শসার রস পান করলে অথবা এক গ্লাস শসার রসের সঙ্গে সামান্য লেবু ও পুদিনা মিশিয়ে খেলে শরীর ডিটক্স হয় এবং দিনভর সতেজ অনুভব হয়। আবার দুপুরের খাবারের আগে এক বাটি শসা সালাদ খেলে দ্রুত পেট ভরে যায় ফলে মূল খাবার কম খাওয়া হয় এবং ক্যালরি গ্রহণও কমে ফলস্বরূপ ওজন ও নিয়ন্ত্রণে থাকে। রাতে হালকা খাবারের সঙ্গে শসা খাওয়া যেতে পারে। রাতে ভারী খাবার না খেয়ে শসা, টমেটো ও লেবু দিয়ে সালাদ খেলে ঘুম ভালো হয় এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে না। এর পাশাপাশি আমরা যদি এক বোতল পানিতে শসা, লেবু ও পুদিনা পাতা ভিজিয়ে রেখে দিন শেষে পান করি থাহলে শরীর থেকে টক্সিন দূর হবে এবং মেটাবলিজম বৃদ্ধি পাবে।

তবে অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না তেমনি শসাও অতিরিক্ত খাওয়াউচিত না। অতিরিক্ত শসা খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়া হতে পারে। যাদের কিডনি সমস্যা আছে, তাদের নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে শসা খাওয়া উচিত। সুতরাং ওজন কমাতে শসা একটি প্রাকৃতিক ও নিরাপদ খাবার। এটি শরীর ঠান্ডা রাখে, হজমে সহায়তা করে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। আমরা যদি আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সঠিক পরিমাণে  শসা রাখি থাহলে আমাদের ধীরে ধীরে ওজন কমবে এবং শরীর থাকবে সুস্থ, ও সতেজ।

শসা যেভাবে হার্ট ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে

শসা শুধু শরীর ঠান্ডা রাখার জন্যই নয়, বরং হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফাইবার থাকে যা আমাদের হার্টের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। শসা আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। শরীরে রক্তচাপ বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া। শসা খেলে শসায়  থাকা পটাশিয়াম রক্তে সোডিয়ামের প্রভাব কমিয়ে দেয় ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। 

নিয়মিত শসা খেলে রক্তনালীগুলো পরিষ্কার থাকে এবং রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। বিশেষ করে যারা উচ্চ রক্তচাপ অর্থাৎ হাই ব্লাড প্রেসারে ভোগে তাদের জন্য শসা একটি প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া শসা শরীরের অতিরিক্ত লবণ ও টক্সিন বের করে দেয় যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
আমাদের হৃদযন্ত্র অর্থাৎ হার্টের জন্যও শসা অনেক উপকারী। শসায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড ও ট্যানিন রক্তে ক্ষতিকর চর্বি কমিয়ে দিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি কমে আসে।এছাড়া এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হৃদপিণ্ডের ছন্দ ঠিক রাখে এবং রক্তনালীর টান কমায়, যা হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় রাখে।

সব মিলিয়ে বলতে গেলে শসা হলো হার্ট ও রক্তচাপের প্রাকৃতিক নিরাময়ক। এটি আমাদের শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে, রক্ত চলাচল উন্নত করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তাই আমাদের উচিত আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একবাটি শসা বা শসার রস রাখা। ফলে আমাদের হার্ট থাকবে সুস্থ, রক্তচাপ থাকবে নিয়ন্ত্রণে এবং শরীর থাকবে সতেজ।

হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে শসার ভূমিকা

শসা আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় ও কার্যকর রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শসা হজম প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তরল সরবরাহ করে। পানি আমাদের যেকোনো ধরণের খাবাকে হজম করতে সাহায্য করে আর এই পর্যাপ্ত পানি আমরা শসা খাওয়ার মাধ্যমে পেয়ে থাকি। শসাতে প্রচুর পরিমাণে আহারযোগ্য আঁশ ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে যা আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করার পাশাপাশি অন্ত্রের গতিশীলতা বৃদ্ধি করে।

ফলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ হিসাবে সহজে বেরিয়ে যায়।বিশেষ করে যারা অনিয়মিত পেট পরিষ্কারের সমস্যায় ভোগেন তাদের জন্য শসা একটি প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করবে। আবার শসাতে বিভিন্ন এনজাইম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং অতিরিক্ত গ্যাস, অম্লতা ও পেটের জ্বালাপোড়া কমায়। এটি লিভারের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি করে ফলে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ভালোভাবে শোষিত হয়।

প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে শসা খেলে শরীর হাইড্রেট থাকে, পেট হালকা লাগে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। গরমের দিনে বা ভারী খাবারের পর এক টুকরো শসা খেলে হজমে অসাধারণ সহায়তা করে। তাই যাদের হজমের সমস্যা আছে তাদের নিয়মিত শসা খাওয়া উচিত। পেটের স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন একবাটি শসা খাওয়ার অভ্যাস আমাদের সবার করা উচিত।

ত্বক ও চুলের যত্নে শসার উপকারিতা

শসা কেবলমাত্র এক ধরনের সবজি নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক বিউটি টনিকও বটে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, সিলিকা ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বক ও চুলের যত্নে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। ত্বকের উজ্জ্বলতা ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায়। প্রাচীনকাল থেকেই শসা ব্যবহার করা হচ্ছে ।

ত্বকের যত্নে শসার ভূমিকা অপরিসীম। শসায় থাকা পানি ত্বককে হাইড্রেট রাখে ফলে ত্বক থাকে কোমল ও মসৃণ। এটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করার পাশাপাশি ত্বক ফাটাও রোধ করে এবং প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে। শসার রস বা শসা কেটে সরাসরি মুখে লাগালে ডার্ক সার্কেল, ফোলাভাব ও সানবার্ন কমে যায়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে এবং ত্বকের বার্ধক্য রোধ করেত এছাড়া শসায় থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় যা আমাদের ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে ও বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে।

শসা প্রাকৃতিক টোনার হিসেবেও কাজ করে। প্রতিদিন সকালে বা রাতে মুখ ধোয়ার পর আমরা যদি শসার রস লাগাই তবে ত্বক হবে সতেজ ও উজ্জ্বল। এর পাশাপাশি ত্বকের তৈলাক্ত ভাব ও কমে যাবে। আবার এটি ত্বক নিয়ন্ত্রণে রাখে কারণ এটি অতিরিক্ত তেল শোষণ করে।
শসা-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা-বিস্তারিত
চুলের যত্নেও শসার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। শসার মধ্যে থাকা সিলিকা, সালফার ও ভিটামিন এ চুলের গঠন মজবুত করে এবং চুল পড়া যা রোধে করে। এটি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ফলে নতুন চুল গজায় ও চুলের গোড়া শক্ত ও মজবুত হয়। শসার রস চুলে লাগালে খুশকি ও চুলকানি কমে যায় এবং মাথার ত্বক সতেজ হয়। তাই নিয়মিত শসার রস বা শসা ভিত্তিক হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে চুলের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

শসা হলো একটি  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষাকারী উপাদান। এটি ত্বক ও চুলকে করে সতেজ এবং সুন্দর। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শসা রাখার পাশাপাশি ত্বক ও চুলে এর ব্যবহার করা। ফলে আমরা পাব কোনো কেমিকেল ছাড়াই সতেজ চুল ও ত্বক। নিয়মিত শসা শরীর হাইড্রেট রাখে, টক্সিন বের করে এবং রক্ত চলাচল উন্নত করে যা সরাসরি ত্বক ও চুলের পুষ্টিতে প্রভাব ফেলে। তাই আমাদের উচিত বাজারের কৃত্রিম পণ্য ব্যবহারের পরিবর্তে প্রকৃতির এই সহজ উপাদানটি ব্যবহার করা।

অতিরিক্ত শসা খাওয়ার কিছু অপকারিতার দিক

শসা একটি পুষ্টিকর সবজি যা শরীর ঠান্ডা রাখে, পানিশূন্যতা রোধ করে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে কিন্তু যেকোনো কিছুর অতিরিক্ত যেমন ক্ষতিকর তেমনি অতিরিক্ত শসা খাওয়াও শরীরের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। শসায় প্রচুর পরিমাণে পানি ও কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকে যা অতিরিক্ত খেলে শরীরের ভারসাম্যে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি নানা শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হয়।

অতিরিক্ত পানি গ্রহণের ফলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। শসায় প্রায় ৯৫% পানি থাকে যা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে কিন্তু অতিরিক্ত খেলে শরীরে ওয়াটার টক্সিসিটি বা ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে। এতে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বমি ভাব এমনকি কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আবার পেটের নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। শসায় থাকা বেশ কিছু উপাদান যেমন কুকুরবিটাসিন বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে পেটে ব্যথা, গ্যাস, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে

অতিরিক্ত শসা খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। শসার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হলেও অতিরিক্ত খেলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস করতে পারে। আবার যারা ডায়াবেটিক রোগী তাদের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যদি যারা রক্তচাপ বা ইনসুলিন সম্পর্কিত ওষুধ গ্রহণ করে থাকে।

অনেকের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বা ত্বকের নানা সমস্যা হতে পারে। শসা খাওয়ার পর অনেকের ত্বকে চুলকানি, ফুসকুড়ি বা মুখ ফুলে যাওয়ার মতো অ্যালার্জি জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটি মূলত শসায় থাকা প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদানের কারণে হয়। এছাড়া যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে শসা খাওয়ার সময় ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত। কারণ শসা শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়, তাই অতিরিক্ত শসা খেলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে এবং মূত্রত্যাগের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

শসা খাওয়ার কিছু সঠিক নিয়ম

শসা একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার রয়েছে যা শরীরের হজম, ত্বক, ওজন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে আমাদের জানতে হবে কিছু সঠিক নিয়ম মেনে শসা খাওয়ার পদ্ধতি।

শসা খাওয়ার সঠিক সময়। শসা খাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় হলো সকালে খালি পেটে বা দুপুরের খাবারের আগে খাওয়া। কারণ এতে শরীর হাইড্রেট থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়। তবে রাতে বেশি পরিমাণে শসা খাওয়া উচিত নয় কারণ এতে থাকা পানি ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা বাড়াতে পারে এবং হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

শসা খাওয়ার সঠিক পরিমাশ সম্পর্কেও আমাদের জানতে হবে। প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে ২ কাপ কুচানো শসা বা একটি মাঝারি আকারের শসা আমাদের জন্য যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে শরীরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বা হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার খাবারের সঙ্গে ভারসাম্য করে সালাদ, স্মুদি বা ডিটক্স পানির সঙ্গে খাওয়া ভালো। এটি অন্য খাবারের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে শরীরকে হালকা রাখে।
লবণ বা মসলা না দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করা আমরা অনেকে শসা খাওয়ার সময় লবণ, মরিচ বা চাটমসলা মিশিয়ে খাই। এটি স্বাদ বাড়ালেও শরীরের জন্য ভালো নয়। লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে, যা শসার উপকারিতা কমিয়ে দেয়। আবার বিভিন্ন মশলা ব্যবহারের ফলে পেটে নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই শসা কাঁচা বা সামান্য লেবুর রস দিয়ে খাওয়াই উচিত।

শসা খাওয়া অবশ্যই স্বাস্থ্যকর এবং এর উপকারিতা থেকে উপকারিতার দিকে বেশি। তবে আমরা যদি সঠিক নিয়ম না মানি থাহলে উপকারের বদলে এটি ক্ষতির কারণ হবে। তাই আমাদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং প্রাকৃতিকভাবে শসা খাওয়ার অভ্যাস গী তুলতে হবে। এতে শরীর থাকবে সতেজ, ত্বক হবে উজ্জ্বল, আর হজম থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

শেষ কথাঃ শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সবশেষে বলতে গেলে শসা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও উপকারী সবজি। এতে থাকা প্রচুর পানি, ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার শরীরকে হাইড্রেট রাখে, হজমে সহায়তা করে, ত্বক ও চুলের যত্নে ভূমিকা রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া শসা ওজন কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা দেয় এবং গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে দারুণ সহায়তা করে। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে শসা খাওয়া। এর ফলে শরীর থাকবে সতেজ ও রোগমুক্ত। তবে মনে রাখতে হবে কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। অতিরিক্ত শসা খেলে পেটে গ্যাস, ডায়রিয়া, কিডনির উপর চাপ ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই পরিমিত এবং সঠিক নিয়মে শসা খাওয়া উচিত 

আমার মতে শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় দিকই রয়েছে। শসা যেহেতু একটি উপকারী সবজি তাই আমাদের উচিত নিয়মিত সঠিক পরিমাণে শসা খাওয়া। আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে আমাদের মধ্যে যারা ওজন কমাতে চাই তাদের নিয়মিত শসা খাওয়া উচিত। এছাড়া শসা আমাদের শরীরের হার্ট ও রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। আবার শসাতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার থাকায় এটি আমাদের হজমে সহায়তা করার পাশাপাশি গরমের দিনে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং হিট স্ট্রোকের প্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শসা খাওয়ার বেশকিছু উপকারের দিক থাকলেও অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না। শসা অতিরিক্ত খেলে হতে পারে নানা শারীরিক জটিলতা। তাই আমাদের উচিত শারীরিক অবস্থা বুঝে অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত শসা খাওয়া।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ক্রিয়েটিভ ইনফো ৩৬০ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url